বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয়েছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। বর্ণিল এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, নান্দনিক মুখোশ ও বিভিন্ন ধরনের প্রতীকী মোটিফ; যা বাংলায় কৃষিভিত্তিক সমাজকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

আজ সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রার সূচনা হয়। এতে অংশ নেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। শোভাযাত্রাটি রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলা প্রাঙ্গণে ফিরে আসার কথা রয়েছে।

boisakhi_shobhajatra

ছবি: তাওহীদুজ্জামান তপু

এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’, যেখানে রয়েছে রাজনৈতিক সচেতনতামূলক বার্তা। এ ভাবনাকে কেন্দ্র করে চারুকলার প্রাঙ্গণে নির্মিত হয়েছে নানা প্রতীকী মোটিফ। লোকজ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক সামাজিক বার্তার সৃজনশীল সংমিশ্রণ তুলে ধরা হয়েছে।

এবারের আয়োজনে পাঁচটি প্রধান মোটিফ স্থান পেয়েছে। মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া। প্রতিটি মোটিফই বহন করছে আলাদা আলাদা প্রতীকী তাৎপর্য।

বৈশাখী শোভাযাত্রায় সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বৃহৎ মোরগের প্রতিকৃতি। ভোরে মোরগের ডাক যেমন নতুন দিনের আগমনী বার্তা আসে, তেমনি এ প্রতিকৃতিও নতুন বছর ও জাগরণের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। বাংলার কৃষিনির্ভর জীবনধারায় মোরগের প্রতীকী গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

boisakhi_shobhajatra3

ছবি: তাওহীদুজ্জামান তপু

বাংলার পথে-প্রান্তর, লোকজ জীবন বৈচিত্র্যময় সুরের আধার। দোতারা এ জনপদের লোকসংগীতের প্রাণ। এ মোটিফ সাংস্কৃতিক শেকড়ের প্রতিনিধিত্ব করছে। এছাড়া বাউল ও বিভিন্ন প্রান্তিক সুরধারার প্রতি অবহেলা ও সাম্প্রতিক নিগ্রহণের প্রতিবাদও দেন দোতারার মোটিফ।

লোকজ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সোনারগাঁয়ের কাঠের হাতিকে বৃহৎ আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাংলার প্রাচীন লোকশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা নিয়ে শোভাযাত্রায় রাখা হয়েছে পায়রার মোটিফ।

boisakhi_shobhajatra2

ছবি: তাওহীদুজ্জামান তপু

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির ঘোড়াও এবারের শোভাযাত্রায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। আরোহীসহ এই ঘোড়ার প্রতিকৃতি দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

শোভাযাত্রায় বরাবরই বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সামনে থেকেছে বিভিন্ন নকশার মুখোশ। এবার বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মুখোশ পরিধানে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই অংশগ্রহণকারীদের হাতে শোভা পেয়েছে বর্ণিল মুখোশ।

boisakhi_shobhajatra4

ছবি: তাওহীদুজ্জামান তপু

এদিকে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নির্বিঘ্নে ও উৎসবমূখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ করে রমনা বটমূল ও এর আশপাশের এলাকা, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, কাকরাইল, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন গেট, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর, শহীদ জিয়া শিশু পার্ক, রমনা বটমূল ছায়ানটের আয়োজনস্থল, রমনা মঞ্চ এবং ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।