নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বকেয়া ভাড়ার জন্য ফয়েজ (৪০) নামে এক ভাড়াটিয়াকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে।

গতকাল সকালে উপজেলার পুরান বন্দর চৌধুরী বাড়িস্থ প্রধানবাড়ি উম্মে কুলসুমের বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ বাড়ির মালিকসহ তিনজনকে আটক করেছে।

নিহত ভাড়াটিয়া মো. ফয়েজ মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানাধীন চরবলাকী গ্রামের আবুল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বন্দর চৌধুরী বাড়িস্থ এলাকায় উম্মে কুলসুমের বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন ফয়েজ। করোনা মহামারীকালে কোথাও তেমন কাজ করতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়েন তিনি। ফলে বাড়ি ভাড়া ঠিকমতো পরিশোধ করতে না পারায় কয়েক মাস বকেয়া পড়ে যায়। এ বকেয়া বাড়ি ভাড়া দ্রুত পরিশোধ করতে গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির মালিক উম্মে কুলসুম ফয়েজ ও তার স্ত্রী রোজিনা বেগমকে চাপ দেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বাকিবতণ্ডাও হয়।

এ ঘটনার জের ধরে গতকাল বেলা ১১টার দিকে বাড়ির মালিক, অন্য ভাড়াটিয়া মহিউদ্দিন ও তার স্ত্রী শিরিনা মিলে ভাড়া পরিশোধ করতে না পারলে এখনই বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন ফয়েজ ও তার স্ত্রীকে। এ সময় ধাক্কাধাক্কিও হয়। এক পর্যায়ে উম্মে কুলসুম, মহিউদ্দিন ও শিরিনা মিলে ফয়েজকে পিটিয়ে আহত করেন। আহত ফয়েজ মাটিতে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে আশপাশের লোকজন নারায়ণগঞ্জ সদরের জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফয়েজকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এ ব্যাপারে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফখরুদ্দীন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদরের জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাড়ির মালিকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে বন্দর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।