সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের রামেশ্বরগাতী পাকার মোড় থেকে নাড়ুয়া ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত রাস্তার দৈর্ঘ্য প্রায় দুই কিলোমিটার। কাঁচা রাস্তাটির কোথাও পানি জমে আছে, কোথাও কাদায় ভরা। রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি সেতু। ঝুঁকি নিয়েই রাস্তায় চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত ভ্যান, মিশুক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের কাঠারবাড়িয়া, বেংনাই, তেঘুরী, নাড়ুয়া ও মাটিকোড়া গ্রামের অন্তত ১২ হাজার মানুষ এ রাস্তায় চলাচল করে। বৃষ্টির দিনে কাদার কারণে শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। এছাড়া উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে জানিয়েছেন ওইসব গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী গ্রামবাসী বলছেন, দীর্ঘদিনেও রাস্তাটি পাকা করা হয়নি। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছতে না পেরে পথেই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও রাস্তাটির উন্নয়ন হয়নি।

শিক্ষার্থী সুমাইয়া ইয়াসমিন ও আবু কালাম আজাদ বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি চরমে ওঠে। কাদাপানির কারণে অনেক সময় নিয়মিত স্কুলে যাওয়া হয় না।’

নাড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ রাস্তা আমাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাদাপানির জন্য স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যায় না। ধান নিয়ে হাটে যাওয়ার সময় উঁচু সেতুতে উঠতে গিয়ে ভ্যান উল্টে পড়ে শাহেদ আলী নামে এক কৃষক মারা গেছেন।’

আল-আমিন সেখ নামে এক কৃষক বলেন, ‘রাস্তা পাকা হলে কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। উৎপাদিত ধানসহ অন্যান্য ফসল সহজে বাজারে নিতে পারবেন। রাস্তা খারাপ থাকায় কৃষিপণ্য সহজে পরিবহন করা যায় না। পরিবহন খরচ হয় তিন-চার গুণ বেশি। এক মণ ধান বাজারে নিতে কমপক্ষে ৩০ টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে। অথচ রাস্তা ভালো হলে সর্বোচ্চ ১০ টাকায় পরিবহন করা যেত।’

রাস্তার বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রবিউল আলম বলেন, ‘পাঙ্গাসী ইউনিয়নের ওই রাস্তাসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি রাস্তা পাকাকরণের জন্য একটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আগামী জুনে এগুলো পাস হলে রাস্তার কাজ শুরু করা যাবে।’