কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকে ১৩তম দফায় নোয়াখালীর ভাসানচরে যাচ্ছে আরো ১ হাজার ৯৯৯ রোহিঙ্গা। গতকাল দুপুরে ২০টি বাসে ১ হাজার ৯৬ ও বিকালে ১৯টি বাসে ৯০৩ রোহিঙ্গা উখিয়া ডিগ্রি কলেজের ট্রানজিট পয়েন্ট থেকে কক্সবাজার ত্যাগ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ১৪ এপিবিএনের এসপি মো. নাইমুল হক জানান, গতকাল বেলা ১টা ও বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উখিয়া ডিগ্রি কলেজের মাঠ থেকে রোহিঙ্গাবাহী বাসগুলো চট্টগ্রামের পথে রওনা হয়। প্রথম বহরে ১ হাজার ৯৬ জন আর দ্বিতীয় বহরে ৯০৩ রোহিঙ্গা ট্রানজিট ক্যাম্প ত্যাগ করেছে। তারা গতকাল চট্টগ্রাম পৌঁছার পর আজ সকালে সেখান থেকে ভাসানচরের পথে জাহাজে উঠবে।
রোহিঙ্গা নেতা হাফেজ জালাল ও হোসেন আহমদ জানান, ক্যাম্পে সহিংস ঘটনার কারণে আতঙ্কিত উখিয়ার কুতুপালং মেগা ক্যাম্পের লম্বাশিয়া, বালুখালী, মধুরছড়া, তাজনিমার খোলা ও জামতলীসহ বিভিন্ন শিবিরের অনেকে ভাসানচরে যেতে রাজি হয়েছে, অথচ আগে তারা সেখানে যেতে চায়নি।
রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারা আরো জানান, সম্প্রতি ১০টি দেশের রাষ্ট্রদূত ভাসানচর এলাকা পরিদর্শন করায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে উৎসাহ আরো বেড়েছে।
এদিকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চের শুরুর দিক পর্যন্ত ১২ দফায় ২৬ হাজারের মতো রোহিঙ্গা ভাসানচর গেছে। ২১ মার্চ সোনাদিয়া দ্বীপ থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে উদ্ধার হওয়া ১৪৯ রোহিঙ্গাকেও ভাসানচর পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ২০২০ সালের মে মাসে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করা ৩০৬ রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে ভাসানচরে নিয়ে রাখা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভাসানচরের পুরো আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির থেকে প্রথম রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে আপত্তি জানালেও এর পর দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে ২০২১ সালের ৯ অক্টোবর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সহায়তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার সম্মতি প্রকাশের মাধ্যমে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। এর আগে দ্বাদশ দফা পর্যন্ত কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছিল ২৪ হাজার ৫৭৮ রোহিঙ্গাকে।
২০১৭ সালের শেষদিকে মিয়ানমারের সেনাদের নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। রোহিঙ্গাদের চাপ কমাতে দুই বছর আগে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার। পরিকল্পিত
এ আবাসন প্রকল্পে ঘরবাড়ি ছাড়াও তৈরি করা হয়েছে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, থানা, বাজার, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও এতিমখানা। রয়েছে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা, ডে-কেয়ার সেন্টার ও সুপারশপের জন্য রয়েছে পৃথক ভবন। পুরো প্রকল্পে নিরাপত্তায় রয়েছে সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ। এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা।










