পদ্মা নদীর নৌ-চ্যানেলে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। খাজনা আদায় নিয়ে বিরোধের জেরে গতকাল সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকালে নৌ-চ্যানেলের সাঁড়ার ৫ নম্বর ঘাটের স্লুইস গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন মো. নিজাম (২৬) ও মো. সজিব হাওলাদার (২৫)। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজন বুকের বাম পাশে ও অন্যজন বাম চোখে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির তথ্য অনুযায়ী, পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এক বছরের জন্য নদীর সাড়াঘাট থেকে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের উত্তরপাড় পর্যন্ত তরিয়া মহলে খাজনা আদায়ের ইজারা নিয়েছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মো. মেহেদী হাসানের মালিকানাধীন ‘এটি এন্টারপ্রাইজ’।
অন্যদিকে বিআইডবলইউটিএ থেকে নদীর গোয়ালন্দ থেকে পাকশী পর্যন্ত নৌ-চ্যানেল চলাচলকারী নৌযান থেকে খাজনা আদায়ের ইজারা নিয়েছে মো. নাসির হাওলাদারের মালিকানাধীন ‘গ্রুপ অন সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড’। গ্রুপ অন সার্ভিসেসের পক্ষে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা এলাকার সোহেল খন্দকার খাজনা আদায় করছেন।
মেহেদী হাসানের অভিযোগ, সোহেল খন্দকারের লোকজন তাদের সীমানা অতিক্রম করে অবৈধভাবে তরিয়া মহলে খাজনা আদায় করেছেন। ঘটনার সময় এটি এন্টারপ্রাইজের কর্মীদের ওপর গুলি ও বোমা ছুঁড়ে নগদ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা, স্পিডবোট ও নৌকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা।
গ্রুপ অন সার্ভিসেসের সহকারী পরিচালক সোহেল খন্দকার জানিয়েছেন, গত তিনদিন ধরে এটি এন্টারপ্রাইজের লোকজন তাদের সীমানায় খাজনা আদায় করছিল। বারবার প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে নদীতে নৌ-পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।










