করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বন্ধ থাকা মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক ও মাধবকুণ্ড ইকোপার্কে (জলপ্রপাত এলাকা) পর্যটকদের জন্য আজ রোববার খুলে দেয়া হবে। দীর্ঘ সাড়ে সাত মাস বন্ধ থাকার পর আবারো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে জেলার প্রধান দুই পর্যটন স্পটে।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ১৯ মার্চ বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. শফিউল আলম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড ইকোপার্কে পর্যটকদের প্রবেশ সাময়িক বন্ধ করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন পর্যটক শূন্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এলাকা বদলে গেছে। বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণ বেড়েছে লাউয়াছড়ায়। প্রাণ-প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে আপন রূপ। প্রকৃতিতে এসেছে বুনো আমেজ। মানুষের যাতায়াত বাড়লে পরিবেশ মুখর হয়ে উঠলেও প্রকৃতিতে চাপ বাড়বে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ১ নভেম্বর থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে, তবে সাময়িকভাবে। কারণ শীতে যদি করোনার প্রকোপ বাড়ে তাহলে আবারো বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। আর দর্শনার্থীদের অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতে সবাই প্রবেশ করেন সেটা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

১৯৯৬ সালে ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জায়গা নিয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। বনের চারপাশ ঘিরে চা বাগান, হাওড়, সংরক্ষিত বন ও বনসংলগ্ন গ্রাম রয়েছে। এই জাতীয় উদ্যানে রয়েছে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ২৪৬ প্রজাতির আবাসিক এবং পরিযায়ী পাখি। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ এবং উভচর প্রাণীর বাস এ বনে। রয়েছে মহাবিপন্ন উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, লজ্জাবতী বানর, বনরুইসহ বিরল প্রজাতির বিপন্ন প্রাণী।