বর্ষায় খুলনার কৈয়াবাজার থেকে মোস্তফার মোড় সংযোগ সড়কের মাঝখানে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যান চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এসব গর্তে যানবাহন পড়ে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, খুলনা-সাতক্ষীরা আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে খুলনা শহর (রূপসা সেতু) বাইপাস জাতীয় মহাসড়ককে সংযুক্ত করতে কৈয়াবাজার থেকে মোস্তফার মোড় পর্যন্ত এ সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়।
সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে রায়ের মহল হয়ে মোস্তফার মোড় থেকে প্রথম ৩ দশমিক ৮০০ কিলোমিটার ডুমুরিয়া উপজেলা ও রাজবাঁধ বাজার থেকে কৈয়াবাজার পর্যন্ত ২ দশমিক ১০০ মিটার বটিয়াঘাটা উপজেলায় পড়েছে।
পুরো সড়কটি ছিল ভাঙাচোরা। কয়েকটি প্যাকেজে গত তিন বছর এর বিভিন্ন অংশের সংস্কার কাজ চলছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রক্ষণাবেক্ষণ খাতে এক কোটি ৮০ লাখ টাকায় বটিয়াঘাটা অংশের ২ দশমিক ১০০ কিলোমিটার মেরামত করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেনতেনভাবে সংস্কার করায় গত বছর থেকেই সড়কটিতে গর্ত তৈরি হয়। বৃষ্টিতে পানি জমে গর্ত এখন ডোবায় রূপ নিয়েছে। অথচ সংস্কার কাজ চলার সময় সড়কের খারাপ অংশ বিটুমিন না দিয়ে আরসিসি ঢালাই দিয়ে নির্মাণের দাবি জানিয়েছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু সে দাবি উপেক্ষা করে সড়কে কার্পেটিং করা হয়েছে। যে কারণে বৃষ্টির পানি জমে ৩ বছরের মধ্যে সড়কের অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কৈয়াবাজার পার হয়ে কিছুদূর যেতেই সড়কের মাঝখানে বিশাল গর্ত। রাস্তাজুড়ে খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় যানবাহন চলাচলের মতো অবস্থা নেই। অনেকটা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলছে। সড়কের ডুমুরিয়া অংশজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে।
সড়কটির দুই পাশে অসংখ্য বেসরকারি আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে। বালি দিয়ে ফসলের ক্ষেত ভরাট করে তৈরি হচ্ছে এসব প্রকল্প। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শতাধিক বালিবাহী ট্রাক সড়ক দিয়ে চলাচল করছে।
বয়রা এলাকার ব্যবসায়ী খলিল গাজী বলেন, সড়কের মাঝখানে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যান চলাচল বন্ধের উপক্রম। গর্তে গাড়ি পড়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে।
তিনি আরো বলেন, এ এলাকার সবচেয়ে বড় হাট বসে কৈয়াবাজারে। হাটে মালামাল নিয়ে যেতে দুর্ভোগের শেষ থাকে না। আবার অনেক ব্যবসায়ী কৈয়াহাট থেকে সবজি কিনে খুলনা শহরে নিয়ে যান। তারাও সড়কটি ব্যবহার করতে পারছেন না।
ওই এলাকার আবুল হাসান গাজী বলেন, সড়কটি মূলত ক্ষতি করেছে বালিবাহী ট্রাক আর জমি ব্যবসায়ীরা। এসব জমি ব্যবসায়ীরা এ এলাকার বাসিন্দা নয়। তারা এখানে প্লট ব্যবসা করেন। এদের কারণে সড়কটি আজ চলাচলে সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে করে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
এলজিইডি খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, অতিরিক্ত লোডের ট্রাক চলাচল করায় সড়কটি দ্রুত নষ্ট হয়েছে। আগামী বছর এটি মেরামত করা হবে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরসিসি ঢালাই দেয়া হবে। আপাতত ইট ও সুরকি দিয়ে গর্ত ভরাট করে চলাচল উপযোগী করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।










