প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা। আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবির, সাধারণ সম্পাদক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদ ও দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের নিয়ে মধ্যাহ্নভোজ করেন। এতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, আইনকানুনের মধ্যে যে অগণতান্ত্রিকতার অংশগুলো রয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছি। অনেকগুলো বিষয়ে যে রিভিউ করা দরকার, সেগুলোতে তিনি সম্মত হয়েছেন। বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক মিডিয়া রেজিম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়ে আমরা সম্মত হয়েছি। কমিটিটি জুন মাসজুড়ে কাজ করবে। এরপর জুলাইয়ের কোনো এক সময়ে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। সেই প্রতিবেদনের আলোকে একটি গণতন্ত্রপরায়ণ আইন প্রণয়ন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, অন্য যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতিপূর্ণ চর্চা রয়েছে, সেগুলো থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সরকার যতদিন গণতান্ত্রিক আচরণ করবে, ততদিন সম্পাদকরা তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন বলে আমরা আশ্বাস দিয়েছি। তারা এটিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ত্রুটি-বিচ্যুতির বিষয়ে নূরুল কবির বলেন, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা পত্রপত্রিকাই নয়, সমাজের নানা জায়গায় ডিসইনফরমেশন ও মিসইনফরমেশন রয়েছে। এগুলো সমাজের সব অংশকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, এমনকি সাংবাদিকদেরও। এসব থেকে বেরিয়ে এসে পুরো গণমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতার ওপর জনগণের আস্থা তৈরিতে যেসব বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করতে আমাদের মধ্যে একটি সম্মিলিত ঐকমত্য হয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে একটি তালিকা দিয়েছি। সেখানে বলা হয়েছে, প্রায় ২৮২ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা রয়েছে এবং এর মধ্যে ৯৪ জন হত্যা মামলার আসামি। আমরা তালিকাটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়েছি। এটি একেবারে সম্পূর্ণ- তা বলব না, অসম্পূর্ণও থাকতে পারে। আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে তালিকাটি তৈরি করেছি এবং প্রধানমন্ত্রী তা গ্রহণ করেছেন। তথ্যমন্ত্রীও এ বিষয়ে বলেছেন। তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বলেছি যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এবং এত ধরনের মামলা- এটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য ভালো নয়, এ সরকারের ভাবমূর্তির জন্যও ভালো নয়।
প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে কী বলেছেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহফুজ আনাম বলেন, উনি খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে এটা গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন, এটা তারা পরীক্ষা করে দেখবেন। এ ব্যাপারে তারা আগ্রহী।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করলে তিনি সম্পাদকবৃন্দের অনুভূতির সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বর্তমান সরকার গঠনের পর থেকে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না থাকায় সম্পাদক পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে অভিনন্দন জানিয়েছেন।










