দরপত্র সিডিউল বিক্রি, ইজারার অর্থ আদায় ও অনুমতি না নিয়ে ভ্রমণভাতা বাবদ প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রধান সহকারী মিজানুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে খুলনা মহানগর বিশেষ জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানালে বিচারক শহিদুল ইসলাম তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দুদকের আইনজীবী খন্দকার মজিবর রহমান জানান, ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সরকারি টাকা কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে মিজানকে গ্রেফতার করে দুদক। এরপর পাওনা টাকা পরিশোধে সময় চেয়ে উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন নেন। গতকাল ওই জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আদালতে উপস্থিত হয়ে আবেদন জানালে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আইনজীবী মজিবর জানান, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনার সহকারী পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ বাদী হয়ে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মিজানুর রহমান দরপত্র শিডিউল বিক্রি, ইজারার অর্থ আদায় ও অনুমতি না নিয়ে ভ্রমণভাতা বাবদ ৪৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।

খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ বলেন, টাকা আত্মসাতের ঘটনার তদন্ত শুরু হলে মিজানুর রহমান দুই কিস্তিতে জেলা পরিষদের কোষাগারে ১৩ লাখ টাকা ফেরত দেন। এর আগে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা পরিষদ থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়।