নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন মোকাবেলায় সতর্ক খুলনার স্বাস্থ্য বিভাগ। এজন্য করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোর চিকিৎসক-নার্সসহ সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তবে চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওমিক্রন শনাক্তে পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই খুলনা বিভাগে। সন্দেহজনক স্যাম্পল পরীক্ষার জন্য ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হবে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এসএম তুষার আলম বলেন, ওমিক্রন শনাক্তের ব্যবস্থা নেই খুলনা বিভাগে। এজন্য
চিকিৎসা দিতে বেগ পেতে হবে। তিনি খুলনায় ওমিক্রন শনাক্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
খুলনা সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, ওমিক্রনের শঙ্কায় এরই মধ্যে কভিড চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক-নার্সসহ সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
সিভিল সার্জন বলেন, খুলনায় এ পর্যন্ত কভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৮২০ জন। মারা গেছেন ৮০৮ জন। এখন কেবল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০০ শয্যার কভিড ইউনিটের ১৩০ শয্যার কার্যক্রম চালু রয়েছে। চাপ বেড়ে গেলে অবশিষ্ট শয্যাগুলোও চালু করা হবে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সহকারী পরিচালক ডা. ফেরদৌসী আক্তার বলেন, সপ্তাহখানেক ধরে বিভাগে কভিড শনাক্তের মাত্রা কয়েকটি জেলায় বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, খুলনা বিভাগে ওমিক্রন শনাক্তে পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। এজন্য কোনো নমুনা পজিটিভ হলে আইইডিসিআরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
খুলনা জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা কমে গেছে। সামাজিক দূরত্ব যেমন কেউ মানছেন না, তেমনি মাস্কের ব্যবহার কমে গেছে। যে কারণে কিছুদিন ধরে কভিড সংক্রমণ বাড়ছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে বিপদ। তাই সবার উচিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। ওমিক্রন প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কভিড চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা জানান, কভিডের প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের শুরুতে খুলনার সরকারি শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ছিল না কভিড ইউনিটসহ পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। যে কারণে পরবর্তী সময়ে খুলনার তিনটি হাসপাতালে কভিড ইউনিটসহ ৩২৫টি শয্যা করা হয়। তবে সংক্রমণ কমে যাওয়ায় জেনারেল হাসপাতাল এবং আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে কভিড ইউনিট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এদিকে চলতি মাস থেকে আবারো কভিড সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। এতে কভিডের তৃতীয় ঢেউ ওমিক্রনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তৃতীয় ঢেউ মোকাবেলায় আগেভাগেই সতর্ক অবস্থানে খুলনার স্বাস্থ্য বিভাগ। হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক রবিউল হাসান বলেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০০ শয্যার কভিড ইউনিট রয়েছে। তবে বর্তমানে বেশির ভাগ শয্যাই খালি। তিনি বলেন, ওমিক্রনের শঙ্কা থেকে হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্স কভিড চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক মো. আব্দুস শাকুর বলেন, হাসপাতালে ৪৬টি শয্যা নিয়ে কভিড ইউনিট খোলা হয়েছিল। সংক্রমণ কমে যাওয়ায় ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। তবে ওমিক্রনের শঙ্কায় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ইউনিটটি আবার চালু করা হবে।
এদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধীনে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের নার্সরা একের পর এক তালিকা পাঠিয়েও সরকার ঘোষিত কভিড প্রণোদনা পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক রাবেয়া পারভীন বলেন, কয়েক দফায় নার্সদের তালিকা পাঠিয়েছি। নার্সিং অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছি। তারা যেভাবে তালিকা চাচ্ছেন, সেভাবেই দিচ্ছি। তার পরও প্রণোদনা পাচ্ছি না। এতে সবাই কাজের উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. রবিউল হাসান বলেন, ২০২০ সালের শেষে নার্সিং অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে তালিকা চাওয়া হলে ৩০৭ নার্সের তালিকা পাঠানো হয়। এ সময় ১০ জনের জন্য অর্থ বরাদ্দ এলেও কারো নাম না থাকায় দেয়া সম্ভব হয়নি।










