দীর্ঘ পাঁচ মাস পর আগামীকাল সকাল থেকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সুন্দরবন। তবে দর্শনার্থীদের কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে হবে। দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়া সুন্দরবনের ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রগুলোকে ভ্রমণ উপযোগী করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বনরক্ষীরা। গতকাল সকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ৩ এপ্রিল থেকে সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সম্প্রতি সারা দেশে বিনোদনকেন্দ্রসহ খুলে দেয়া হয়েছে পর্যটনকেন্দ্রগুলো। এ ধারাবাহিকতায় এবার সুন্দরবনেও পর্যটক প্রবেশের অনুমতি দেয়া হলো।
যদিও সুন্দরবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে মানতে হবে নানা নিয়মকানুন। প্রবেশের সময় সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে হবে। প্রত্যেককে মাস্ক পরিধান করে প্রবেশ করতে হবে। নৌযান থেকে মাত্র ২৫ জন করে দলে দলে ভাগ হয়ে বনে প্রবেশ করতে হবে। যারা এ সব শর্ত ভঙ্গ করবে তাদের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বন বিভাগ। এদিকে সুন্দরবন প্রবেশে অনুমতি দেয়ার খবরে খুশি হয়েছেন ট্যুর অপারেটররা। তারাও নিজেদের নৌযান ধুয়ে-মুছে চমচকে করে নিচ্ছেন।
পর্যটন কোম্পানি দ্য সাউদার্ন ট্যুরসের স্বত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমান বলেন, করোনার কারণে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ থাকায় আমাদের ব্যবসাও বন্ধ ছিল। এ খাতে কাজ করা বিপুল পরিমাণ জনশক্তি বেকার অবস্থায় ছিল। মানবেতর জীবনযাপন করেছেন তারা। ১ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন খুলে দেয়ার খবরে আমরা খুব খুশি হয়েছি। সরকার ও বন বিভাগের নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনেই ট্যুর অপারেট করার কথা জানান তিনি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, সরকারের ঊর্ধ্বতন বন কর্তৃপক্ষ ও বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরিধানসহ নানা বিধিনিষেধ মানতে হবে। এসব বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও থাকবেন সতর্ক অবস্থায়।
তিনি আরো বলেন, ১ সেপ্টেম্বর সুন্দরবনে দর্শনার্থীদের প্রবেশ উপলক্ষে বনের ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রগুলোকে প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ নানা কাজ করা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রয়েছে বন বিভাগের।










