দেশে ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে ডিজিটাল লেনদেন আরো সম্প্রসারণের আহবান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, নগদ অর্থ ছাপানো, সংরক্ষণ, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংককে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। ক্যাশলেস লেনদেনের পরিধি বাড়ানো গেলে এ ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে, যা সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের অর্থও সাশ্রয় করবে।

চট্টগ্রাম নগরের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বাংলাকিউআর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গতকাল প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্লাটফর্মে নিয়ে যাওয়া। এ লক্ষ্যে কিউআরভিত্তিক পেমেন্টসহ বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থ্য সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার মার্চেন্ট মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এম.এফএস) ও কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট প্লাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এসব প্লাটফর্মে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ডিজিটাল লেনদেন হচ্ছে। চলতি বছর শেষে এ লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ পরিমাণ ৫ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব‍্যাংক।

চট্টগ্রামে বাংলাকিউআরের ব্যবহার আরো বাড়ানোর আহবান জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঢাকার পর চট্টগ্রামই দেশের প্রধান বন্দরনগরী, শিল্প ও বাণিজ্যের কেন্দ্র। তাই ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তারেও চট্টগ্রামকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। অন্য কোনো অঞ্চল যেন এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রামকে ছাড়িয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মো. আমিরুল হক বলেন, কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা দৈনন্দিন লেনদেনকে আরো সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করেছে। একবার এ পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে নগদ অর্থ বহন, খুচরা টাকার ঝামেলা কিংবা দীর্ঘ সময় অপেক্ষার প্রয়োজন থাকে না।

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম এরই মধ্যে ডিজিটাল লেনদেনকে ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছে। শুরুতে বয়স্কদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও সময়ের সঙ্গে তারাও এ ব্যবস্থায় অভান্ত হয়ে উঠবেন। বর্তমান বিশ্বে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক রিয়েল টাইম ডিজিটাল সেবা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ দেশের ব্যবসা-বাণিজা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকেও আরো শক্তিশালী করবে।