সুনামগঞ্জে একই সাথে ১০টি শিশু অপরাধের মামলার রায় দিয়েছেন নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালত। আজ বুধবার দুপুরে এ রায় প্রদান করেন নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন। ১০টি মামলায় ১৪ জন শিশু অপরাধীকে সংশোধনের জন্য বন্ডের মাধ্যমে তাদের অভিভাবকের জিম্মায় দেয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালতের সরকারি কৌশলি অ্যাডভোকেট নান্টু রায়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আহমেদ সালেহ তায়্যিব নামের এক কিশোর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযুক্ত ছিলেন। আরেক মামলায় আবু সাইদ, মিজানুর রহমান, রাব্বুল মিয়া, জুনায়েদ আলম নামে চার কিশোরের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিকটিমের ছবির সাথে ছবি সংযুক্ত করে ফেসবুকে ছড়ানো ও মানহানির অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
আরেক আসামি মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশকে গ্রেফতারি পরেরোয়ানা তামিলে বাধা প্রদান ও আসামি পলায়নে সহায়তা করায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। রুহুল আমিন নামের এক কিশোর মামলার আসামি হন শ্লীলতাহানির অপরাধে। আলী আকবর, মো. মন্তাজ আলীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিলো দলবদ্ধভাবে লাঠি দিয়ে মারপিট করে সাধরণ জখম করার অপরাধে।
মো. তারেক নামে এক কিশোরের বিরুদ্ধে মাদক রাখার অপরাধে মামলা হয়। কিশোর আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে লাঠি দিয়ে মারপিঠ করার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। রতন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল মাদক রাখার। ফয়জুল ইসলাম নামে কিশোর জুয়া খেলার অপরাধে মামলার আসামি হয়। আসামি দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে দলবদ্ধভাবে লাঠি দিয় মারপিপ করে সাধরণ জখমসহ হত্যার হুমকি প্রদানের অপরাধে মামলা হয়।
আদালত বলেছেন, ১০ মামলার এই ১৪ শিশুকে ৮টি শর্ত মেনে চলতে হবে। আর এই সব কর্মকান্ড তদারকি করবেন সমাজ সেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমান।
তিনি জানান, তাদের বন্ডের মাধ্যমে আদালত কর্তৃক প্রভিশনে থাকাকালীন যে শর্তগুলো মেনে চলাফেরা করতে হবে। তার মধ্যে রয়েছে- তারা বাবা-মায়ের আদেশ নির্দেশ মেনে চলবে, বাবা-মায়ের সেবা করবে এবং প্রতিদিন যার যার ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলবে। এছাড়াও তাদের নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ করতে হবে এবং প্রত্যেকে কমপক্ষে ২০টি গাছ লাগানো ও পরিচর্যা করতে হবে। এই শিশুদের অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে, মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে এবং ভবিষ্যতে কোনও অপরাধারে সাথে নিজেকে না জড়ানোর শর্ত দিয়েছেন আদালত।
এসব শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে প্রভিশন কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমানের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে পুনরায় আটক করে টঙ্গী কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।










