অধ্যাপক ড. সিরাজুল করিম চৌধুরী। বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাডিজ অনুষদের ডিন। এর আগে তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের সাবেক প্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শফিকুল ইসলাম
পড়ার বিষয় হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কেমন?
বর্তমান বিশ্বে যে সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়গুলো উৎকর্ষ হয়েছে তার সবকিছুই ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাই দিন দিন এ বিষয়ের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা নিজ দেশে ও বহির্বিশ্বে বেড়েই চলেছে। বৃহৎ শিল্প ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়টির কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশে এ বিষয়ে গ্র্যাজুয়েটদের চাহিদা কেমন? আর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?
বাংলাদেশের বৃহত্তর শিল্প খাতগুলোয় বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বহু বিদেশী ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার কাজ করছেন। তারা সবাই উচ্চ বেতনে নিয়োজিত আছেন। এ অবস্থায় আমরা সহজেই বুঝতে পারি বাংলাদেশে বিশাল একটি ঘাটতি আছে আইপিই ইঞ্জিনিয়ারদের। আমরা লক্ষ করছি যে আমাদের এখানে যারা গ্র্যাজুয়েট হচ্ছেন তারা সঙ্গে সঙ্গে ভালো বেতনে চাকরি পেয়ে যাচ্ছেন। যেহেতু এ শিল্প খাত ক্রমবর্ধিষ্ণু তাই এখানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা বাড়তেই থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
একজন শিক্ষার্থী কেন এ বিষয়কে পছন্দের শীর্ষে রাখবেন?
বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে এর পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়েছে। কাজেই যেকোনো কর্মক্ষেত্রে এ দক্ষতা সফলভাবে কাজে লাগাতে সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। আবার কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে দেশে ও বিদেশে প্রচুর সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
আইপিই ইঞ্জিনিয়ারের কাজ কী? তাদের কাজের ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে যদি বলতেন।
আইপিই ইঞ্জিনিয়ারের কাজ মূলত ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমগুলোকে প্রয়োগ করে ইন্ডাস্ট্রির সমস্যা সমাধান করার পাশাপাশি প্রসেস অপটিমাইজ করা। আইপিই গ্র্যাজুয়েটরা প্রোডাকশন প্ল্যানিং, ম্যানুফ্যাকচারিং, অপারেশন ম্যানেজমেন্ট, সাপ্লাই চেইন, কোয়লিটি কন্ট্রোল, ডাটা সায়েন্স, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাজ করেন।
আপনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিনের দায়িত্বে আছেন। একাডেমিক কারিকুলাম, ল্যাব ফ্যাসিলিটি, শিক্ষার মান এসবের মধ্যে বিশেষ কোনো পার্থক্য চোখে পড়েছে কি?
সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কারিকুলাম ও একাডেমিক কার্যকলাপে কোনো পার্থক্য নেই। উভয় ক্ষেত্রেই ইউজিসি অনুমোদিত কারিকুলাম অনুযায়ী দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলী পাঠ দান করেন। আর ল্যাব ফ্যাসিলিটি বিষয়টা আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবসময় একটি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্টের ঐকান্তিক চেষ্টায় আমরা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ল্যাব সম্পূর্ণভাবে তৈরির ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছি।
বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা কেমন?
ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন প্রযুক্তি জাপান ও জার্মানির মতো দেশেই উৎকর্ষের চরম শিখরে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে কেউ উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে চাইলে অনেক সুযোগ আছে। আইপিই গ্র্যাজুয়েটরা বিদেশে প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যানুফ্যাকচারিং ইঞ্জিনিয়ারিং, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, হিউম্যান ফ্যাক্টর ইঞ্জিনিয়ারিং, অপারেশন রিসার্চ, ডাটা সায়েন্স ইত্যাদি বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা নেয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে।
আপনার যদি কিছু বলার থাকে।
সিভিল, মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে তুলনা করলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্টটি নতুন। তবে এ সাবজেক্টের সাফল্য মোটেই কম নয়। সরকারি ও বেসরকারি একাডেমিক ও নন-একাডেমিক অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে এ বিভাগের কারিকুলাম, ট্রেইনিং, একাডেমিক মডিউল, জব প্লেসমেন্ট নিয়ে কাজ করলে সাবজেক্টটি শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে থাকবে।









