মোহাম্মদ আয়মান চৌধুরী
ইন্টার্নশিপ: ডিজিটাল মার্কেটিং ইন্টার্ন, বিকাশ
কর্মরত: ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি, বিকাশ
বিকাশে ইন্টার্নশিপ শেষ করার পরই আমি একজন স্থায়ী কর্মী হিসেবে বিকাশে যোগ দিয়েছিলাম। ইন্টার্নশিপ আমাকে দুটি জিনিস উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছিল। প্রথমত, এটি আমাকে একটি নির্দিষ্ট চাকরির পোস্টের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা জানতে সাহায্য করেছে। আমি সেই ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে কাজের বিবরণ এবং সেই চাকরিতে দক্ষতা অর্জনের জন্য কী প্রয়োজন তা বুঝতে পেরেছি। এটি আমাকে প্রতিদিনের অপারেশন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা দিয়েছে। তাই এটি আমাকে কাজের জন্য প্রস্তুত করেছে। দ্বিতীয়ত, আমাকে বিকাশের ওয়ার্ক কালচার সম্পর্কে জানতে সাহায্য করেছে। আমার কাছে, বিকাশে প্রচলিত ওয়ার্ক কালচার আমার জন্য সঠিক মিল বলে মনে হয়েছে। তাই আমি জানতাম আমি এখানে কাজ করতে চাই। প্রতিষ্ঠানের দিক থেকে, এন্ট্রি লেভেল পজিশনের জন্য ইন্টার্ন বেছে নেয়াও একটি নিরাপদ বিকল্প, কারণ তাদের কাছে সেই ইন্টার্নের কর্মক্ষমতার আগে থেকেই ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে।
লাবিবা হোসেন
ইন্টার্নশিপ: শাহ সিমেন্ট রেডিমিক্স কংক্রিট
কর্মরত: ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিআরএম, শাহ সিমেন্ট রেডিমিক্স কংক্রিট
ফাইনাল ইয়ারের সেকেন্ড সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ করার পর ২০২২ সালের অক্টোবরে আবুল খায়ের গ্রুপের প্রতিষ্ঠান শাহ সিমেন্ট রেডিমিক্স কংক্রিটে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাই। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানেই কর্মরত আছি। তিন মাসের ইন্টার্নশিপ জার্নিতে আমি রেডিমিক্স কংক্রিটের উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে কনজাম্পশন লেভেলে পৌঁছানো পর্যন্ত সব পদক্ষেপ সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে জানতে পারি। এ তিন মাসের পথচলায় আমি একবারও অনুভব করিনি আমি একজন ইন্টার্ন। আমার রেগুলার অনটাইমে অফিসে আসা, টিমের সবার সাথে রেগুলার কাজগুলো ভাগ করে নিয়ে কাজ করা, মার্কেট ভিজিট করে কাস্টমার ডাটা কালেক্ট করে অ্যানালাইসিস করে লাইন ম্যানেজারকে রিপোর্ট দেয়া এবং নিয়মিত কাস্টমার সন্তুষ্টি নিয়ে কাজ করে যাওয়ার যে ধারাবাহিকতা, তা অচিরেই আমার ইউনিটের সিনিয়র ম্যানেজমেন্টের আস্থা ও সন্তুষ্টি অর্জন করে। ফলে আমাকে জানুয়ারির ১ তারিখে শাহ সিমেন্ট রেডিমিক্স কংক্রিটের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এবং সিআরএম টিমে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। একাডেমিক শিক্ষা এবং বাস্তব বিশ্বের প্রয়োগের মধ্যে ব্যবধান ঘোচায় এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ নেটওয়ার্ক বিল্ডিং, পেশাদার সম্পর্ক তৈরি ও কর্মক্ষেত্রের গতিশীলতা বোঝার সুযোগ দেয়। যারা ইন্টার্নশিপ পিরিয়ডটাকে হেলায় পার করে, তারা আসলে ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে মস্ত বড় ভুল করে। নিজের সেলফ ব্র্যান্ডিংটা যেমন এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেই সঙ্গে নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও অনেকটা সুনামহানি হয়। সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা নিজেরই হয়—কাজের দক্ষতা লোপ পায়, প্রতিকূল অবস্থায় কাজ চালিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হয়। সবকিছুর ঊর্ধ্বে, ক্যারিয়ার গ্রোথ, প্রফেশনালিজম এ টার্মগুলোর বাস্তবিক চর্চা আমি আমার ইন্টার্নশিপ জার্নিতে আয়ত্ত করতে পেরেছি। যেটা আমার পুরো চাকরি জীবনে চলার পথের পাথেয় হিসেবে কাজ করবে।
মূসকান তাবাসসুম
ইন্টার্নশিপ: মার্কেটিং ট্রেইনি, ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা
কর্মরত: আই-ইন্টার্ন, ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা
বিবিএর ছাত্রী হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের শেষ সেমিস্টারে এসে একটি একাডেমিক অ্যাটাচমেন্ট করতে হয় অর্থাৎ ইন্টার্নশিপ করতে হয়। যেহেতু আমার মেজর ছিল ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট সেহেতু আমার বরাবরই ইচ্ছা ছিল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় ইন্টার্নশিপ করার। ২০২২ সালের সার্কুলার প্রকাশের পর আমি আবেদন করি। পরে আমি মার্কেটিং ট্রেইনি হিসেবে জয়েন করি। তিন মাস আমার ট্রেনিং পিরিয়ড ছিল। আমার ইন্টার্নশিপ শেষ করে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা আমাকে আই-ইন্টার্ন প্রোগ্রামে জয়েন করার জন্যে কল করে। I-Intern বলতে বোঝানো হয় Intercontinental Intern। এক বছরের একটি প্রোগ্রাম। এ প্রোগ্রামে পারফরম্যান্স ইভ্যালুয়েশন করে পরবর্তী সময়ে ক্যান্ডিডেটকে পার্মানেন্ট করা হয়। আমার ট্রেনিং-পরবর্তী সময়ে আমি সেলস, এক্সিকিউটিভ অফিস এবং মার্কেটিং তিন ডিপার্টমেন্টেই কাজ করি। সব ডিপার্টমেন্টে ক্রস-ইন্টার্নশিপ করার কারণে আমার কাজ শেখার পরিধি বেড়ে যায়। আমার ইন্টার্নশিপের পুরো সময়ে আমার সুপারভাইজার, আমার সিনিয়র সবাই আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করে এবং আমাকে প্রতিটি কাজ হাতেকলমে শিখিয়েছে। আমার এ এক্সপেরিয়েন্স আমার চাকরি বাজারে অনেক কাজে লাগবে বলে আমি আশা করি।
মনিরুজ্জামান বাহার
ইন্টার্নশিপ: নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি
কর্মরত: কমার্শিয়াল ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার-বেভারেজ নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি
ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টে ইন্টার্নশিপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। ছাত্র থেকে কর্মজীবনে প্রবেশের সময়টায় তো ইন্টার্নশিপ একটি সেতু হিসেবে কাজ করে। আমি অনেক নতুন স্কিল সম্পর্কে জেনেছি এবং শিখেছি এ সময়টায়। এছাড়া শক্ত প্রফেশনাল নেটওয়ার্কের ভিতও এখান থেকে শুরু হয়েছিল, যা এখনো আমাকে অনেক সাহায্য করে। করপোরেট কালচার এবং বাস্তব জীবনে কাজের অভিজ্ঞতার কারণে ইন্টার্নশিপ আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও হেল্প করেছে অনেক গুণ। এ আত্মবিশ্বাস চাকরির ইন্টারভিউ এবং কর্মক্ষেত্রে প্রতিদিনের মিথস্ক্রিয়ায় একটি মূল্যবান সম্পদ হিসেবে কাজ করছে আমার জন্য। ইন্টার্নশিপের সবচেয়ে বড় দিক হলো এটা আমাকে চাকরিতে প্রবেশের আগেই চাকরির জন্য প্রস্তুত করে তুলেছিল। অফিসের প্রতিদিনের কাজের ধরন, মিটিং, কীভাবে প্রায়োরিটি সেট করতে হবে, কীভাবে বিক্রয় প্রচেষ্টা নিতে হবে তার একটা প্রাথমিক ধারণা পেয়েছিলাম। ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা চাকরি পেতে সহায়তা করে। আমার চাকরির ইন্টারভিউয়ে এমন অনেক প্রশ্ন করা হয়েছে যেগুলোর উত্তর আমি ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা থেকে খুব সহজে বলতে পেরেছিলাম, যেটা কিনা ইন্টার্নশিপ ছাড়া উত্তর দেয়া কঠিন ছিল। পরিশেষে বলতে পারি যে যদিও একাডেমিক শিক্ষা একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে কিন্তু থিওরি ও প্র্যাকটিসের মধ্যে ব্যবধান পূরণ করে ইন্টার্নশিপ।









