মানুষের জীবনের অনবদ্য একটি অংশ পরিবেশ। পরিবেশ রক্ষা ও মানুষকে সচেতন করতে দুই দশক ধরে কাজ করছে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। বিভাগটির উদ্যোগে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ক্লাব’, সংক্ষেপে ইডিএমসি। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিবেশবান্ধব নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ক্লাবটি।
পরিবেশের জন্য কী কী কল্যাণকর, অকল্যাণ তা সবই শেখানো হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের। সচেতনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। শুধু নিজেরাই সচেতন হওয়া নয়, সেই সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে কাজ করছেন নিজেরাই। প্রতি সেমিস্টারে অনেক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নতুন সদস্য যুক্ত করা হয় এ ক্লাবে।
প্রতি সেমিস্টারেই শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পরিবেশবান্ধব কার্জক্রম যেমন বৃক্ষ রোপণ, শীতার্ত মানুষদের শীতবস্ত্র বিতরণ, আইডিয়া কনটেস্ট, পোস্টার কম্পিটিশনস, প্রজেক্ট কম্পিটিশনস ইত্যাদি পরিচালনা করা হয়।
বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা তাদের আইডিয়া তুলে ধরেন। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের সব ফ্যাকাল্টিরা পরিদর্শন করে দেখেন শিক্ষার্থীদের নতুন আইডিয়া ও উদ্ভাবন। পরবর্তী সময়ে মার্কিং করে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান নির্বাচন করে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন নতুন নতুন উদ্ভাবনা ও গবেষণাকাজে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ক্লাব মূলত শিক্ষার্থীদের থেকে টেকসই এবং উন্নত পরিবেশে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রজেক্ট, আর্টিকেল ইত্যাদি সংগ্রহ করে। সম্প্রতি এক প্রজেক্ট কম্পিটিশনে সেরা তিন বিজয়ীর প্রজেক্টে সমাধান উঠে আসে পরিবেশের তিন সমস্যার। মিউনিসিপ্যাল সলিড ওয়েস্টের মধ্যে ইলেকট্রিসিটি ও ল্যান্ডফিলের ইভল্যুশন নিয়ে প্রজেক্ট করে প্রথম স্থান অর্জন করে মনজুরুল মাকসুদ হোসাইন, মাহফুজ হাসান ও সুলতানা সাহামাতের দল। ই-ওয়েস্ট ডিসপোজের মাধ্যমে পরিবেশের সংরক্ষণশীলতা অর্জন বিষয়ে প্রজেক্ট করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে তাওহিদা তাহের, ইরফান হায়াত, ইসরাত জাহান নিসার দল। সাহরিয়ার হাসান শুভ, মাহফুজুর রহমান, সামিউল ইসলাম সাজিদের দল গ্রিনবেল্ট ব্যবহারের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ার ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট করে দখল করে তৃতীয় স্থান।
ক্লাবটি বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের ৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয় ও তার আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সচেতনতা ও ডাস্টবিন প্রদান কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া নদীর তীরবর্তী এলাকা পরিষ্কার করেন ক্লাবটির সদস্যরা। ক্লাবের সদস্যদের উদ্যোগে ঢাকার শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ক্লিনিং প্রোগ্রাম কর্মসূচি পরিচালনা করে ইডিএমসি। যেখানে অংশ নেন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। প্রতি বছরই নানা ক্লিনিং কর্মসূচি পরিচালনা করছেন ক্লাব সদস্যরা।
ইউএপির এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের সহসভাপতি জয় রয় বলেন, ‘পরিবেশ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা এবং পরিবেশের বিভিন্ন সমস্যাকে অভিনব ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কীভাবে সমাধান করা যায় তা নিয়ে গবেষণা করা এবং মানুষকে জানানোই ক্লাবটির মূল লক্ষ্য।’
ক্লাবের উপদেস্টা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক নাফিসা তাসনিম বলেন, ‘এ ক্লাবের উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছি বেশিদিন হয়নি। কিন্তু এ অল্প কয়েকদিনে ক্লাবের উদ্ভাবনী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আমি সন্তুষ্ট। আমি নিজে এনভায়রনমেন্টের বিভিন্ন কোর্স শিক্ষার্থীদের পড়াই। যে কারণে এ সৃজনশীল কাজগুলোতে আমি যথেষ্ট আগ্রহবোধ করি এবং ক্লাবের সদস্যদের কাজের পরিধি বাড়াতে উৎসাহ দিয়ে থাকি। এ পরিবেশ ক্লাব নিয়ে আমি আশাবাদী।’









