স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন কেবল তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির মধ্য দিয়েই সম্ভব। সে পথেই এগিয়ে চলছে দেশের স্বপ্নবাজ একদল তরুণ। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো তৈরি হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ড্রোন ‘আচার্য’। বাংলা ভাষায় নির্দেশনা গ্রহণে সক্ষম এ ড্রোন নিয়ে উদ্ভাবক দলটির দাবি বিশ্বের প্রথম ‘বাংলা কমান্ডে’ চলা ড্রোন এটি।

বণিক বার্তার সঙ্গে কথা হয়েছে মূল উদ্যোক্তা এসএম ইশতিয়াক ইবনে সালামের সঙ্গে। যিনি লালমনিরহাটে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাষক। এই ড্রোন তৈরির পেছনের কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, ‘‌ড্রোনকে সবাই খুব জটিল একটি বিষয় বলেই মনে করে। ভাবে এটি পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। তবে আমরা যে ড্রোনটি তৈরি করেছি এটি ব্যবহারে কোনো রকম দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই। কারণ এটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র। এছাড়া ড্রোনটিতে বাংলা ভয়েস কমান্ড হওয়ার ফলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও নিঃসংকোচে এটি ব্যবহার করতে পারবে। যেমন কৃষি ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার সহজেই হতে পারবে। পাশাপাশি সামরিক ক্ষেত্র, যেকোনো সার্ভে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণও সহজেই করা যাবে ড্রোনটি ব্যবহার করে।’

ইবনে সালাম আরো জানিয়েছেন, ‘বাজারে আগে থেকে থাকা ড্রোনগুলোর মধ্যে যদি এ ড্রোনগুলোর সিস্টেম ইনস্টল করা হয় তবে তা ব্যবহার আরো সহজ হয়ে উঠবে।’ এভাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি তৈরি দেশের জন্য উন্নত কিছু বয়ে আনবে। এ ড্রোনটি ব্যবহারে দক্ষ পাইলট কিংবা বিদেশী ভাষার প্রয়োজন নেই। এ কাজের সঙ্গে প্রভাষক সালামের সঙ্গে আরো যুক্ত ছিল তার নয়জন ছাত্রের একটি দল। তাদের টিমের নাম ‘‌আর-পাস টাস্কফোর্স’।

টিম লিডার এসএম ইশতিয়াক ইবনে সালামের সঙ্গে অন্য তরুণ সদস্যরা হলেন ঝলক ব্যানার্জি, হিমেল ইসহাক, তাসদিদ তাহসিন, সাইফুল ইসলাম রনি, বোরহান উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন সৈকত, মারুফ রায়হান, হলিজিত পাল, খালিদ সাইফুল্লাহ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় চালিত ড্রোনটির পাইলট সিস্টেমটির নাম ‘আচার্য’। আচার্য বলতে পণ্ডিত শব্দকেই বোঝায়। আর-পাস টাস্কফোর্স টিমের দাবি, বাজারের সাধারণ ড্রোনগুলোর চেয়ে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় অনেক বেশি এগিয়ে।  ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে বাংলা কণ্ঠস্বর শুনেই এটি পরিচালিত হয়। আর্টিফিশিয়াল নিউরাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এটিকে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। ড্রোনটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। তবে শিক্ষকের দাবি একেবারে প্রাইমারি অবস্থা থেকে তৈরি করতে হয়েছে বলেই প্রথমবার এত বেশি খরচ হয়েছে। ম্যাস প্রডাকশনে আরো কম খরচে আন্তর্জাতিক বাজার মোকাবেলাও সম্ভব বলে দাবি টিম আর-পাস টাস্কফোর্সের।