খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বাড়াতে ডাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর কথা ভাবছে ভারত। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে দেশে ডালের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমদানি বাড়িয়ে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চায় দেশটির সরকার। আসন্ন উৎসবের মৌসুমে দেশজুড়ে ডালের চাহিদা দ্রুত বাড়ে। এ সময়ে বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে আগাম পদক্ষেপ হিসেবে শুল্ক কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিজনেস রেকর্ডার।
ভারতের সরকারি ও সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের কয়েকটি সূত্র জানায়, সম্ভাব্য শুল্ক কমানোর তালিকায় মসুর ডাল ও হলুদ মটরশুঁটি থাকতে পারে। তবে দেশীয় কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় ছোলায় আমদানি শুল্ক কমানোর সম্ভাবনা কম। বর্তমানে ভারতে মসুর ডাল ও ছোলা আমদানিতে ১০ এবং হলুদ মটরশুঁটি আমদানিতে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। এর আগে অবশ্য অড়হর ও মাষকলাইয়ের ডাল আমদানিতে শুল্ক তুলে নেয়া হয়েছে। এ সুবিধা ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
বিশ্বজুড়ে ডাল উৎপাদন, ব্যবহার ও আমদানিতে শীর্ষে রয়েছে ভারত। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে দেশটিকে নিয়মিত বিদেশি বাজারের ওপর নির্ভর করতে হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে ২ কোটি ৫৭ লাখ টন ডাল উৎপাদনের বিপরীতে ৭৩ লাখ টন ডাল আমদানি করা হয়। যা দেশের মোট ব্যবহারের প্রায় ২৩ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, রাশিয়া, মায়ানমার ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ভারত প্রধানত ডাল আমদানি করে থাকে।
ভারতে ডাল চাষ মূলত বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে। তবে এবার প্রধান ডাল উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে বৃষ্টিপাত হ্রাস পেয়েছে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে গড়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। ফলে চলতি বছর ডাল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অক্টোবরের শুরু থেকে কৃষকরা ছোলার চাষ শুরু করেছেন। এ কারণে শুল্ক না কমিয়ে দেশে ছোলার চাষ বাড়াতে উৎসাহ দিতে চায় সরকার।
ভারতে গত ডিসেম্বর থেকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা আগস্ট মাসে প্রায় ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে বাজারে অড়হর ও মাষকলাই ডালের দাম অনেকটা বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে ডালের পাশাপাশি ভোজ্যতেল আমদানিতেও শুল্ক ছাড় এবং চিনি রফতানি নিয়ন্ত্রণের মতো নানা নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার।










