বাংলাদেশে তুর্কি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ব্যবসার জন্য ঢাকা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত এবং উভয় দেশকে তাদের সম্পর্কের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত।
গতকাল তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে উভয়দেশকে আরো জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ওপর প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায়, রোহিঙ্গা সংকট নিরসন এবং শিক্ষার্থী বিনিময় বাড়ানোর বিষয়ে তারা বৈঠকে আলোচনা করেন।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বন্যায় তুরস্কের মানবিক সহায়তা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি অব্যাহত সহায়তা প্রদানের জন্য প্রধান উপদেষ্টা তুরস্কের ব্যাপক প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তুরস্কের একটি অফিসিয়াল প্রতিনিধিদলের সফর করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও ফার্স্ট লেডিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এসময় তুর্কি রাষ্ট্রদূত গত বছর তুরস্কের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সংহতি জানিয়ে দশ হাজার তাঁবু পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আসন্ন ওয়ার্ল্ড হালাল সামিট এবং ইস্তাম্বুলে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি সম্মেলনে যোগদানের জন্য তুরস্কের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তুর্কি রাষ্ট্রদূত আরো জানান, নতুন ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সুযোগ খুঁজে বের করতে তুরস্কের একটি অফিসিয়াল প্রতিনিধিদল বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগে সহায়তা করার চেষ্টা করছে। তিনি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো নিবিড় করতে জোরদার পদক্ষেপের কথা জানান।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বন্যার কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় সাম্প্রতিক বন্যার সময় তুরস্কের আরেকটি দল দেশটি সফর করেছে। তারা বন্যার্তদের জন্য ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লায় মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে।
এসময় তিনি আরো জানান, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বর্তমানে ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, এবং রপ্তানি বাড়ানোর অনেক সুযোগ উভয় দেশের কাছেই রয়ে গেছে।
তুর্কি রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের একটি উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল তুরস্কের ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য তার দেশটি সফর করার প্রয়োজন রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করবেন বলে জানান এ তুর্কি রাষ্ট্রদূত।










