টানা চার কার্যদিবস দরপতনের পর অবশেষে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে দেশের পুঁজিবাজার। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৫৭ পয়েন্টের বেশি। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ফান্ডের ইউনিটদর বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। এদিন বিদেশী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের তুলনায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্রয় চাপ বেশি ছিল। বিদেশী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিক্রয় প্রবণতায় থাকলেও বাজারে নিট ক্রেতা ছিলেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

ডিএসইর গতকালের বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৭ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বা ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ৫ হাজার ৩৪২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের কার্যদিবসে সূচকটির অবস্থান ছিল ৫ হাজার ২৮৪ পয়েন্ট। একই দিন ডিএসইর ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ বেড়েছে ১৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৮ শতাংশ। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস বেড়েছে প্রায় ৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৪ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে মোট ৩৮৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৮২টির, কমেছে ৫১টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৫০টির দর। সে হিসাবে দরবৃদ্ধির বিপরীতে দরপতন হওয়া কোম্পানির অনুপাত ছিল ৫ দশমিক ৫৩। তবে সূচকের উত্থানের বিপরীতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। গতকাল ডিএসইতে মোট ৫২২ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল প্রায় ৫৬৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। একই সঙ্গে লেনদেন হওয়া শেয়ারের পরিমাণ কমেছে ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

বিনিয়োগকারীদের শ্রেণীভিত্তিক লেনদেনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গতকাল বাজারের মোট ক্রয়ের ৯১ শতাংশই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। বিপরীতে বিক্রির ক্ষেত্রে তাদের অংশ ছিল ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্রয়ের পরিমাণ বিক্রির তুলনায় বেশি ছিল। অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মোট ক্রয়ে অংশ ছিল ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ, বিপরীতে বিক্রিতে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ক্রয়ে অংশ ছিল মাত্র দশমিক ১২ শতাংশ, যেখানে বিক্রিতে তাদের অংশ ছিল ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। ফলে বিদেশী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিক্রির বিপরীতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্রয়প্রবণতাই বাজারের উত্থানে ভূমিকা রেখেছে।

শেয়ারের শ্রেণীভিত্তিক লেনদেনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ারে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে। এ ক্যাটাগরির শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৪৪ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ৬৭ শতাংশ। ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩৩ কোটি টাকার বা মোট লেনদেনের প্রায় ২৬ শতাংশ। এছাড়া ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারে প্রায় ২৪ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের প্রায় ৫ শতাংশ।

খাতভিত্তিক লেনদেনে গতকাল শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাত। এ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৫৩ কোটি টাকার, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩০ দশমিক ৫২ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সাধারণ বীমা খাতে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৬০ টাকার। এছাড়া ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৫১ কোটি, প্রকৌশল খাতে প্রায় ৪৩ কোটি এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৪১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

এদিন দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল আমরা টেকনোলজিস। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া শাইনপুকুর সিরামিকসের ৯ শতাংশ, পূরবী ইন্স্যুরেন্সের ৮ দশমিক ৬৫ ও এসকে ট্রিমসের ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ দর বেড়েছে। অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে ছিল জিএসপি ফাইন্যান্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।