এশিয়ার বাজারে আগামী কয়েক মাস ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে কয়লার দাম। ইন্দোনেশিয়া থেকে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং চীনে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে তৈরি হয়েছে সরবরাহ সংকট। একই সঙ্গে মজুদ বাড়ানো এবং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বাড়ায় দামেও তৈরি হচ্ছে চাপ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থা ফিচ রেটিংস। খবর দ্য বিজনেসলাইন।

সংস্থাটি জানায়, সরবরাহ সংকট ও শীতের আগে মজুদ বাড়ানোর প্রবণতা স্বল্পমেয়াদে কয়লার দাম ধরে রাখতে সহায়তা করবে। এতে কয়লা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় ও নগদ প্রবাহ বাড়বে। পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও উন্নত হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে চীন ও ভারতের কয়লা আমদানি কমে যাওয়া এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায় এ সুবিধা ধরে রাখা কঠিন হবে।

ইন্দোনেশিয়ায় সরবরাহে অনিশ্চয়তা

বিশ্বের অন্যতম কয়লা রফতানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদন ও রফতানি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। খনির উৎপাদন কোটা নির্ধারণ এবং পরিবহন সমস্যায় দেশটির কয়লা রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট খরা। পানির স্তর কমে যাওয়ায় বারিতো নদীতে কয়লাবাহী বার্জ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে গত আগস্টে ইন্দোনেশিয়ার কয়লা রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। সেপ্টেম্বরে কমেছে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ।

ফিচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদন কোটা না পাওয়া এবং পরিবহন সমস্যায় ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি কয়লা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সরবরাহে অপারগতা জানিয়েছে।

দেশটি এ বছর প্রথমে ৬০ কোটি টন কয়লা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। ২০২৫ সালে উৎপাদন হয়েছিল ৭৯ কোটি টন। পরে সরকার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা শিথিল করলেও ২০২৭ সালের উৎপাদন কোটা ও রফতানি নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

চীনে উৎপাদন কমেছে

এশিয়ার বড় কয়লা উৎপাদক ও ভোক্তা দেশ চীনেও উৎপাদন কমেছে। গত মে মাসে শানসি প্রদেশে একটি খনিতে দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা তদারকি জোরদার করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ফলে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন কার্যক্রম।

ফিচের তথ্যানুযায়ী, গত জুলাইয়ে চীনের কয়লা উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। আগস্টে কমেছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) দেশটির উৎপাদন কমেছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

তবে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে পারে বলে মনে করছে ফিচ।

এতে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার সরবরাহ পরিস্থিতি কতদিন সংকটপূর্ণ থাকে, তার ওপরও দামের গতিপথ নির্ভর করবে।

এদিকে ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা ৫-৭ শতাংশ হারে বাড়ছে। জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়া এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বাড়ানোর সীমাবদ্ধতার কারণে এসব অঞ্চলে কয়লার চাহিদা শক্তিশালী রয়েছে।

অন্যদিকে চীনে নবায়নযোগ্য ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি কমেছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটিতে এ ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৭ সালে তা স্থিতিশীল থাকতে পারে অথবা সামান্য কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ফিচ।

সংস্থাটি বলেছে, স্বল্পমেয়াদে বাড়তি দাম কয়লা উৎপাদকদের আয় বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে চীন ও ভারতের আমদানি কমে যাওয়া এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে ঝোঁক এ খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।