লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংকে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা সহজ করা, পরিবহনকালীন ঝুঁকি কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার নিরাপদ আনা-নেয়া নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গতকাল এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো মানি চেঞ্জারদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার কাস্টোডিয়াল অ্যাকাউন্ট বা সংরক্ষণ হিসাব খুলতে পারবে। এতে শুধু নগদ বৈদেশিক মুদ্রা জমা ও উত্তোলন করা যাবে। জমাকৃত অর্থের ওপর কোনো সুদ দেয়া যাবে না। ব্যবসায়িক লেনদেনের প্রোফাইল ও নথিপত্রের ভিত্তিতে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রাও জমা রাখা যাবে। প্রতিদিন ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে উদ্বৃত্ত অর্থ জমা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অথবা পরবর্তী কার্যদিবসের সকালে উত্তোলন করা যাবে।

মুদ্রা পরিবহনে চুরি, ডাকাতি ও ক্ষতির ঝুঁকি মোকাবেলায় ক্যাশ-ইন-ট্রানজিট (সিআইটি) বীমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত সীমার বেশি বৈদেশিক মুদ্রা পরিবহনে নিবন্ধিত সিআইটি সেবা অথবা বিশেষ নিরাপত্তা প্রহরী ব্যবহার করতে হবে। দিনের শেষভাগে বা ব্যাংক বন্ধের কাছাকাছি সময়ে জমা হওয়া অর্থের জন্য ব্যাংকগুলোকে নিরাপদ কাউন্টার ও সাময়িক ভল্টের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

অর্থ উত্তোলনে ব্যাংক চেকবই বা উইথড্রয়াল স্লিপ দিতে পারবে। তবে মানি চেঞ্জারের নিবন্ধিত ও অনুমোদিত প্রতিনিধির স্বাক্ষর, ছবি ও পরিচয় যাচাই করে এ সুবিধা দিতে হবে। এসব হিসাবে ওভারড্রাফট বা ঋণ সুবিধা দেয়া যাবে না; শুধু জমাকৃত অর্থই উত্তোলন করা যাবে। ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে হিসাব পরিচালনায় যৌক্তিক ফি ও ক্যাশ হ্যান্ডলিং চার্জ নির্ধারণ করা যাবে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, এসব হিসাবের সব লেনদেন নগদ বৈদেশিক মুদ্রার নোটের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। ফান্ড ট্রান্সফার, রেমিট্যান্স ও তৃতীয় পক্ষের লেনদেন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকদের কেওয়াইসি হালনাগাদ রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া মানি চেঞ্জার লাইসেন্সের মেয়াদ যাচাই করতে হবে। প্রতিটি লেনদেনের তারিখ, সময়, মুদ্রার নোটের বিবরণ ও অর্থ বহনকারীর তথ্যসহ পূর্ণাঙ্গ অডিট ট্রেইল সংরক্ষণেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।