ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১০৪ কোটি টাকার নাইন ব্রিজ প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছে। হাওরাঞ্চলের ৩৪টি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে প্রকল্পটি নেয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও নয়টির মধ্যে আটটি সেতুর নির্মাণে দীর্ঘদিন ধরে কোনো অগ্রগতি নেই। কাগজে-কলমে অর্ধেক কাজ দেখানো হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয়রা। এছাড়া কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এলাকাবাসী। তবে সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার। যদিও কাজের ধীরগতির বিষয়টি স্বীকার করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হাওরবেষ্টিত জনপদের তিন ইউনিয়নের ৩৪টি গ্রামকে জেলা সদর ও পাশের কিশোরগঞ্জ জেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য তৎকালীন সরকার একনেকে নাইন ব্রিজ নামে একটি প্রকল্প নেয়। এর ব্যয় ধরা হয় ১০৪ কোটি টাকা। উপজেলার নাসিরপুর, ভলাকুট, খাগালিয়া, দুর্গাপুর, চাতলপাড়, চকবাজার, ইসাপুর, গুজিয়াখাই ও কান্দার খাল এলাকার নদ-নদীর ওপর এ নয় সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে আটটি সেতু নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসান এন্টারপ্রাইজ। বাকি একটি সেতুর কাজ পায় মোস্তফা এন্টারপ্রাইজ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাগালিয়া নদীর ওপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোস্তাফা এন্টারপ্রাইজ নির্মিত ৩ নং সেতুর কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। তবে নির্ধারিত সময় দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও এখনো অন্য আট সেতুর কাজে অগ্রগতি নেই।

এলজিইডি সূত্রে আরো জানা যায়, প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ে উপজেলায় দুটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২১ সালে। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে। দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালে, যা শেষ হওয়ার কথা ২০২৩-এ। বাকি চারটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালে। এগুলো চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা।

সরজমিনে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এসব সেতুর নির্মাণকাজ। কাগজপত্রে এগুলোর কোনটির কাজ ৫০ ভাগ, আবার কোনটির ৫৫ ভাগ শেষ হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। তবে বাস্তবে এর কোনো মিল নেই। দুই বছরেও সেতুর কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এতে একদিকে যেমন ব্যয় বাড়ছে, তেমনি যাতায়াতে স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি দীর্ঘ হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা এসব সেতু নির্মাণের কাজ চলা দেখছেন। কিন্তু নানা অনিয়মের কারণে কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে পেরিয়ে গেলেও সেতু সম্পন্ন হচ্ছে না। এ সময় তারা নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সেতুগুলোর নির্মাণ হোক।

অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসান এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার খাইরুল হাসান বলেন, ‘কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। বিষয়টি সঠিক নয়।’

তবে নাসিরনগর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক নির্মাণকাজে ধীরগতির বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ে নাইন ব্রিজ প্রকল্প শেষ হয়নি। নয়টি সেতুর মধ্যে একটি সেতুর কাজ শেষ পর্যায়ে। তবে বাকি সেতুগুলোর নির্মাণকাজ উল্লেখযোগ্যভাবে এগোয়নি। তিনি আরো জানান, প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’