জলবিদ্যুতের পর একসময় সবচেয়ে কম ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস হিসেবে বিবেচিত হতো গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। তবে জ্বালানি ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে সে অবস্থানেও পরিবর্তন আসছে। বর্তমানে গ্যাসভিত্তিকের চেয়েও কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বা রুফটপ সোলার থেকে। প্রতি ইউনিট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেখানে ব্যয় হয় ৭ টাকা ১০ পয়সা, সেখানে রুফটপ সোলারে খরচ মাত্র ৫ টাকা। আর ব্যাটারি সংরক্ষণ সুবিধাসহ এ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় পড়বে ইউনিটপ্রতি ৮ টাকা।
বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর সমাপনী দিনে বাসাবাড়ি ও শিল্প খাতে রুফটপ সোলারের সম্ভাবনা নিয়ে গতকাল আয়োজিত এক সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘ডোমেস্টিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রুফটপ সোলার: ইনশিওরিং এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রিয়েটিং এমপ্লয়মেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের প্রধান মো. এনামুল কবীর পাভেল।
প্রবন্ধের তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রগুলোয় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় ২৭ টাকা ৪০ পয়সা। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এ ব্যয় ১৩ টাকা ২০ পয়সা। আর ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের ক্ষেত্রে (আদানিসহ) গড় ব্যয় ইউনিটপ্রতি ১১ টাকা ৭০ পয়সা। বিপরীতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ৭ টাকা ১০ পয়সা এবং রুফটপ সোলারে তা ৫ টাকা।
বর্তমানে দেশে সরকারের গড় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ইউনিটপ্রতি ১২ টাকা ৮০ পয়সা বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়। গ্রাহকের কাছে যদিও বিদ্যুৎ বিক্রি করা হচ্ছে গড়ে সাড়ে ৮ টাকা দরে। ফলে উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে রয়েছে বড় ব্যবধান, যার চাপ পড়ছে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইডকলের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের প্রধান মো. এনামুল কবীর পাভেল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে কোনো গ্রাহক বা উদ্যোক্তা রুফটপ সোলার স্থাপন করলে গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় পড়বে ৫ টাকার মতো। বাসাবাড়ির ক্ষেত্রে এ ব্যয় আরো কম, ইউনিটপ্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা। এ ব্যবস্থা নিজস্ব বিনিয়োগে স্থাপন করা যায়। আবার ইডকলের ডিমান্ড এগ্রিগেটর ব্যবস্থার মাধ্যমেও অর্থায়ন পাওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বাকি অর্থ ৬ শতাংশ সুদে তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে ঋণ নেয়ার সুযোগ রয়েছে।’ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণে সরকার এরই
মধ্যে দেড় হাজার এরপর » পৃষ্ঠা ৫ কলাম ২
কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
শিল্প খাতেও রুফটপ সোলার সম্প্রসারণের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, দেশের বেসরকারি শিল্প খাতে রুফটপ সোলারের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্পেই সম্ভাব্য সক্ষমতা ৪ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট। অন্যান্য শিল্প খাতে রয়েছে আরো প্রায় ৮৫০ মেগাওয়াটের সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে একদিকে শিল্পের বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপও কমানো সম্ভব হবে।
জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে অর্থায়ন সহজ করতে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সোলার এক্সপোর মঙ্গলবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে এ তহবিলের কথা জানান। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সহজ অর্থায়নের মাধ্যমে বাসাবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন বাড়ানোর পাশাপাশি এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগও উৎসাহিত করা হবে।
এদিকে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট স্থাপিত সক্ষমতা বর্তমানে প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে সরকারি বিভিন্ন পরিসংখ্যানে ভিন্নতা রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, দেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের মোট সক্ষমতা ২ হাজার ১৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ১ হাজার ৭২৪ মেগাওয়াট। সৌরবিদ্যুতের এ সক্ষমতার মধ্যে সরাসরি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ১ হাজার ৩৪৬ মেগাওয়াট।
কম উৎপাদন ব্যয়, সহজ স্থাপন প্রক্রিয়া এবং শিল্প ও আবাসিক খাতে বিস্তৃত সম্ভাবনার কারণে রুফটপ সোলার দেশের বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠছে। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সহজ অর্থায়নের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নীতিগত সহায়তা, কারিগরি সক্ষমতা এবং উৎপাদিত বিদ্যুতের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।
দেশের শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। প্রচলিত জ্বালানির তুলনায় কম উৎপাদন ব্যয়, বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং সরকারি নীতি-প্রণোদনা শিল্পোদ্যোক্তাদের এ খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে রুফটপ সোলারের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। এতে কারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরশীলতাও কমছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জ্বালানিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের এ সম্ভাবনার চিত্র উঠে এসেছে। গত ৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সরকারি হিসাবে দেশে বর্তমানে ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা ৪১৮ মেগাওয়াট। তবে আইইইএফএর নিজস্ব হিসাবে, ২৩৯টি বড় শিল্প-কারখানার ছাদেই স্থাপিত সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ৬৬৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বড় শিল্প-কারখানার পাশাপাশি ছোট স্থাপনাগুলোর ছাদে বসানো সৌরবিদ্যুৎও হিসাবের আওতায় আনলে দেশে রুফটপ সোলারের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। এরই মধ্যে দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমাতে ভূমিকা রাখছে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ। ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সময়ের সঙ্গে চলতি বছরের একই সময়ের বিদ্যুৎ চাহিদা তুলনা করে এ প্রবণতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।
জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কমাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। সংস্থাটির মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় নতুন চাপ তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশীয় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ অন্যতম সম্ভাবনাময় উৎস। সরকারি অর্থায়ন, শুল্কছাড় এবং প্রযুক্তির ব্যয় কমে আসায় এ খাতে বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ব্যাটারি ছাড়া হিসাব করলে রুফটপ সোলারে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় পড়ে ৩ থেকে ৪ টাকার মতো। আর ২০ শতাংশ ব্যাটারি ব্যাকআপের হিসাব ধরলে প্রতি ইউনিট ব্যয় দাঁড়ায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ টাকা। আমরা প্রাথমিকভাবে হিসাব করে এ ব্যয় পেয়েছি। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়েছে। আমাদেরও সেদিকে যেতে হবে। নেট মিটারিং চালু করা হয়েছে। এটি গ্রাহকদের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রির সুযোগ থাকায় বিনিয়োগকারীরাও এগিয়ে আসবেন।’
শিল্প খাতে রুফটপ সোলারের সম্প্রসারণের বাস্তব উদাহরণও তৈরি হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিষ্ঠান হ্যামস গার্মেন্টস এর অন্যতম। আন্তর্জাতিক লিড প্লাটিনাম সনদে বিশ্বসেরা স্কোর অর্জন করা কারখানাটি গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই মেগাওয়াট সক্ষমতার রুফটপ সোলার ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে কারখানাটি নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করতে পারছে। ব্যয় সাশ্রয়ী ও টেকসই হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে আরো তিন মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।
হ্যামস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শিল্পে রুফটপ সোলার এখন ব্যয় সাশ্রয়ী একটি ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এটি টেকসই অবস্থান তৈরি করেছে। সরকার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্কছাড় দেয়ায় অনেক তৈরি পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন এ খাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ বিনিয়োগের অর্থ উঠে আসতে অনেকে তিন বছর সময়ের কথা বললেও বাস্তবে গড়ে পাঁচ বছর লাগে। তবে বিদ্যুৎ সুবিধার বিবেচনায় শিল্পের জন্য এ বিনিয়োগ এখন বড় কোনো বিষয় নয়।’
শিল্প খাতে সৌরবিদ্যুতের এ সম্প্রসারণকে আরো গতিশীল করতে নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা বাড়াচ্ছে সরকার। দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন সক্ষমতা ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চায় সরকার। এ উদ্দেশ্যে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ আইন অনুমোদনের পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থায় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের মূল্য কিলোওয়াট ঘণ্টাপ্রতি সাড়ে ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ আমদানিতেও শুল্কছাড় দেয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে এ খাতে বিনিয়োগকারী ও গ্রাহক—উভয় পক্ষের আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রুফটপ সোলার নিয়ে সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক। তবে ছোট ছোট কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সেগুলো দূর করা গেলে সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। গ্রাহকদের কাছ থেকে আমরা খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। সারা দেশে সৌরবিদ্যুতের বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে রুফটপ সোলারেই গ্রাহকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। এ খাতের বাজার বড় হচ্ছে। সরকার নীতি ও প্রণোদনার সুযোগ তৈরি করেছে। ফলে আগামী দিনে সৌরবিদ্যুতের বাজার একটি মাইলফলক তৈরি করবে।’
দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের বিভিন্ন স্টল অংশ নিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি স্টল গড়ে প্রায় ৩০০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে সোলার সিস্টেম স্থাপনের বিষয়ে সাড়া পেয়েছে। মানুষের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আগ্রহ যে দিন দিন বাড়ছে, এটি তারই ইতিবাচক ইঙ্গিত।’
সব মিলিয়ে জ্বালানি ব্যয় কমানো, বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা মোকাবেলা এবং শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে রুফটপ সোলার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে এ সম্ভাবনাকে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বড় শক্তিতে রূপ দিতে অর্থায়ন সহজ করার পাশাপাশি নেট মিটারিংয়ের কার্যকর বাস্তবায়ন, অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।










