যুক্তরাজ্যে লোকসানের বৃত্তে রয়েছে সেলিব্রেটি শেফ গর্ডন রামসের রেস্তোরাঁ সাম্রাজ্য। প্রথমবারের মতো বার্ষিক বিক্রি ১০ কোটি পাউন্ড ছাড়িয়ে গেলেও মুনাফার মুখ দেখতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় শাখা। লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী দ্য সেভয় গ্রিল, পেত্রুস ও লাকি ক্যাটসহ রামসের মোট ৩৪টি রেস্তোরাঁ রয়েছে। এসব রেস্তোরাঁ নিয়ে গঠিত যুক্তরাজ্যের ব্যবসাটি গত বছরও ৫৮ লাখ পাউন্ড নিট লোকসান গুনেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
লন্ডনের প্রাণকেন্দ্র বিশপসগেটের একটি উঁচু টাওয়ারে নতুন কয়েকটি শাখা চালু করার পর বিক্রি বাড়তে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটির। এক বছরে ব্যবসাটির মোট বিক্রি ৩ শতাংশ বেড়ে ১০ কোটি ১ লাখ পাউন্ডে পৌঁছেছে।
গর্ডন রামসে রেস্তোরাঁ গ্রুপের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি ওয়েনলক জানান, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ২০২৬ সাল বেশ শক্ত অবস্থানের সঙ্গেই শুরু করেছেন তারা। প্রতিষ্ঠানটি এখন নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ব্যবসা আরো বাড়ানোর ওপর নজর দিচ্ছে।
ফেব্রুয়ারিতে নেটফ্লিক্সে ‘বিয়িং গর্ডন রামসে’ নামক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচার শুরু হয়। এর প্রভাব পড়ে রেস্তোরাঁর বিক্রিতে। পাশাপাশি লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রামসের শততম রেস্তোরাঁ ব্রেড স্ট্রিট কিচেন অ্যান্ড বার চালু হয়।
ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ে আশাবাদী ওয়েনলক জানান, স্থানীয় ও লন্ডনের বাজার এখনো সম্ভাবনায় ভরপুর। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা লোকসানে থাকলেও বিশ্বজুড়ে গর্ডন রামসের সাম্রাজ্য বেশ ভালো অবস্থানে আছে। মোট ১০৩টি রেস্তোরাঁ থেকে বিশ্বব্যাপী বিক্রি ৭ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১৫ কোটি ১৮ লাখ পাউন্ডে গিয়ে ঠেকেছে।
তিনি আরো জানান, লায়ন ক্যাপিটালের যৌথ মালিকানায় যুক্তরাষ্ট্রেও প্রতিষ্ঠানটির ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় নতুন অংশীদারত্বের মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণ করায় গ্রুপের মূল পরিচালন মুনাফা ১২ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৪৪ লাখ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে।
মাস্টারশেফের মতো রিয়ালিটি শোর মাধ্যমে ঘরে ঘরে পরিচিতি পান গর্ডন রামসে। টিভি স্ক্রিনে সোজাসাপ্টা কথা, তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ ও কঠোর রন্ধনশৈলী তাকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে।










