পাশাপাশি ব্যবসার পরিচালন ব্যয় হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করেছে সংগঠনটি। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের কাছে গতকাল পাঠানো এক চিঠিতে চট্টগ্রাম চেম্বারের পক্ষে এ আহ্বান জানান সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী নেতা, কাস্টমস ও বন্দর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় চারদিনের মধ্যে পণ্যের শুল্কায়ন সম্পন্ন করে বন্দর থেকে খালাস নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বন্দরের সব স্ক্যানার সচল করে কার্যক্রমে গতি আনা এবং জাহাজ ও পণ্যজট কমানোর কথাও বলেন তিনি। তবে এসব নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এখনো কিছু ক্ষেত্রে কাস্টমসের অসহযোগিতা, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা এবং সদিচ্ছার অভাবে পণ্য খালাসে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি।

চিঠিতে আরো বলা হয়, শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত ডেমারেজ ও পোর্ট চার্জ এবং অন্যান্য ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এতে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

চেম্বারের সভাপতি বলেন, ‘বর্তমানে একই পণ্য একাধিক সংস্থার মাধ্যমে বারবার পরীক্ষা, কনটেইনার স্ক্যানিংয়ের পরও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুনরায় কায়িক পরীক্ষা, স্থানীয়ভাবে পরীক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ল্যাব টেস্টের জন্য ঢাকায় নমুনা পাঠানো, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেট অব অরিজিন গ্রহণের পরও স্বাক্ষর যাচাইয়ের নামে বিলম্ব এবং বাধ্যতামূলক নয় এমন অনেক পণ্য বিএসটিআই পরীক্ষার জন্য পাঠানোসহ নানা কারণে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া দীর্ঘ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পণ্য খালাসে ৭-৮ দিন, এমনকি তারও বেশি সময় লাগছে।’

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, একই পণ্যের একাধিকবার কায়িক পরীক্ষা করতে গিয়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায়ও কনটেইনার আনস্টাফ করতে হচ্ছে। এতে অনেক পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো বাজারজাতের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে আমদানিকারকদের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

এছাড়া আমদানীকৃত পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণে বিদ্যমান বিধিমালা অনুসরণ না করে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন (লোডিং) করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া আরো জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সময়ের মাশুল, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের ব্যয় যুক্ত হয়ে ব্যবসা পরিচালনার খরচ এবং পণ্যের মূল্য উভয়ই বাড়ছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, কাস্টমস আইন, ২০২৩ কার্যকর হওয়ার পরও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পেপারলেস কাস্টমস, প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেসিং এবং রিস্ক বেইজড এক্সামিনেশনসহ আধুনিক শুল্ক ব্যবস্থাপনার পূর্ণ সুফল এখনো ব্যবসায়ীরা পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবসাবান্ধব শুল্কায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, দ্রুত পণ্য খালাস এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।