কোনো কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তা কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম সৌদি আরামকো। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেল রফতানি নির্বিঘ্ন রাখতে নতুন বিকল্প পথ তৈরির পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়াকে দেয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা আরামকোর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আমিন নাসের।
তিনি বলেন, ‘তেল রফতানির জন্য আমাদের কাছে তিনটি প্রধান পথ রয়েছে। বর্তমানে চতুর্থ ও পঞ্চম পথ তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া যেকোনো বড় সংকট সামাল দিতে জাপানের মতো বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোয় জ্বালানি মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।’
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার পর আরামকোর জ্বালানি অবকাঠামো বেশ কয়েকবার হামলার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে চলতি মাসে দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন সিস্টেমে আঘাত হানার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেকটাই বেড়ে যায়। পাইপলাইনটি প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত তেল পরিবহন করে। ফলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রফতানির সুযোগ পায় সৌদি আরব।
অবকাঠামোর ওপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ নিরসন করে আমিন নাসের বলেন, ‘কোনো সাময়িক বিঘ্ন ঘটলে তা পুনরুদ্ধার করতে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস লাগে না, বরং কয়েক দিনের মধ্যেই সমাধান করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৯ সালে ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছিল। তখন ১১ দিনের মধ্যে পুরো উৎপাদন ও কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হয়। ইস্ট-ওয়েস্ট লাইনটি একটি একক পাইপলাইন নয়, বরং একাধিক লাইনের সমন্বয়ে গঠিত। ফলে একযোগে সব লাইন অচল করে দেয়া কঠিন।’
তিনি আরো স্পষ্ট করে বলেন, ‘প্রধান পথগুলোয় সমস্যা দেখা দিলেও আমরা মিসরের সুমেদ পাইপলাইন ব্যবহার করে লোহিত সাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পাঠাতে সক্ষম। ফলে বিশ্ববাজারের ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ বন্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিবদ্ধ ক্রেতাদের আশ্বস্ত করে আরামকোপ্রধান বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তি অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে। তবে বিশ্ববাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চুক্তির বাইরের অতিরিক্ত তেল বাজারে ছাড়া হবে না। আপৎকালীন সংকট এখনো কাটেনি। তাই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বেশ সতর্ক থাকতে হবে।’










