‘সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন খাতে চ্যালেঞ্জ, সুযোগ ও করণীয়’ শীর্ষক একটি সভার আয়োজন করেছে ওয়েভ ফাউন্ডেশন। সভায় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে গুরুত্বারোপ করেছেন বিশিষ্টজনেরা।
আজ রোববার (২০ অক্টোবর) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলীর সভাপতিত্বে এবং উপ-পরিচালক কানিজ ফাতেমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ এবং অন্যান্য অতিথির মধ্যে ছিলেন পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মাসফিকুস সালেহীন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুল হক এবং রাজশাহী ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আল্লা হাফিজ।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ড. মো. হাসান আলী এবং লিপি আমেনাসহ স্থানীয় সরকার ও পানি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অনেক অঞ্চলে এখনো সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে। জনসংখ্যার বড় অংশ নিরাপদ পানি ও সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন সেবা থেকে বঞ্চিত। তবে সুশাসন ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করে জানানো হয়, দেশের ৬২ শতাংশ জনগণের ঘরে নিজস্ব ল্যাট্রিন থাকলেও মাত্র ৩৯ শতাংশ নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন সেবা পাচ্ছে। খুলনা ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন খাতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে।
খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের সেবা ব্যবস্থাপনায় অভিযোগ প্রতিকারের ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। বর্তমানে ৪৮-৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগ মীমাংসা করা হচ্ছে।
রাজশাহী ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আল্লা হাফিজ জানান, রাজশাহীতে পানির চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অপ্রতুল। তবে পদ্মা নদী থেকে পানি শোধনের মাধ্যমে চাহিদা পূরণের চেষ্টা চলছে।
এছাড়া সভায় বক্তারা পানি অপচয় রোধ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
সভায় ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক কানিজ ফাতেমা সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সঠিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে সকল নাগরিককে এ সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন ড. মো. হাসান আলী এবং প্রকল্পের পক্ষে উপস্থাপন করেন লিপি আমেনা। গবেষণায় উঠে আসা সুপারিশগুলো হলো:
- পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন খাতে শুদ্ধাচার ও জবাবদিহিতা বাড়ানো
- সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম জোরদার করা
- অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা ও বাজেটিং নিশ্চিত করা
- নাগরিক পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন
- সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা
সভায় উপস্থিত বক্তারা পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। —বিজ্ঞপ্তি










