চলতি ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৩৫ কোটি ৪০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পরিচালন আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি। আলোচ্য সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট পরিচালন আয় বেড়েছে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ। এ আয়ের ৬২ শতাংশ এসেছে মূল ঋণ কার্যক্রম থেকে সুদ বাবদ।

আইপিডিসি ফাইন্যান্সের আর্থিক ফলাফল অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ পয়সায়, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬১ পয়সা। আলোচ্য সময়ে মোট সুদ আয় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৭৪৯ কোটি ১০ লাখ টাকা হয়েছে।

বিপরীতে সুদ ব্যয় ৫৬১ কোটি টাকায় নেমেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৩ শতাংশ কম। এতে নিট সুদ আয় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১৮৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ট্রেজারি পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে বিনিয়োগ থেকে আয় ২৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১১৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা হয়েছে। একই সময়ে কমিশন ও ব্রোকারেজ আয় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ১০ লাখ টাকায়। সব মিলিয়ে জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে মোট পরিচালন আয় হয়েছে ৩১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় বেড়েছে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে পরিচালন আয় ২০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১১৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা হয়েছে।

এদিকে আলোচ্য নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন ব্যয় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১২৯ কোটি ১০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে ব্যয়ের তুলনায় আয় দ্রুত বাড়ায় প্রভিশন-পূর্ব মুনাফা ৪০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১৯০ কোটি ৭০ লাখ টাকা হয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে এ মুনাফা ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৬৮ কোটি ১০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সম্ভাব্য আর্থিক ঝুঁকি মোকাবেলা ও আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী রাখতে পর্যাপ্ত প্রভিশন সংরক্ষণের কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা হয়েছে। পরিকল্পিত ঋণ বিতরণ ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ঋণ, অগ্রিম ও লিজের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫৭৮ কোটি ৬০ লাখ টাকায়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ স্থিতির তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে আমানত ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৭৯০ কোটি ৯০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর আকার বেড়েছে ৪৬ দশমিক ১ শতাংশ। সেপ্টেম্বর শেষে এ পোর্টফোলিওর স্থিতি ছিল ১ হাজার ৫৫৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

নগদ প্রবাহের ক্ষেত্রেও উন্নতি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ছিল ৬ টাকা ৯৯ পয়সা। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৩৮ পয়সায়। অন্যদিকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১৭ টাকা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে ১৭ টাকা ৩৭ পয়সা হয়েছে।

এ বিষয়ে আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ সামস বলেন, ‘শিগগিরই ৪৫তম বছরে পা রাখতে যাচ্ছে আইপিডিসি। এ বিশেষ সময়ে অর্জিত এ সাফল্যে ব্যবসার গতি বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক ভিত্তি মজবুত রাখার প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটেছে। আমরা বিশ্বাস করি, টেকসই প্রবৃদ্ধি আসে কার্যসম্পাদন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতার ভারসাম্য থেকে। পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতিতে ব্যবসার মূল ভিত্তি আরো মজবুত করা ও গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখাই আমাদের অগ্রাধিকার।’

১৯৮১ সালে যাত্রা শুরু করা আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ক্র্যাব) প্রতিষ্ঠানটিকে এএএ রেটিং দিয়েছে। করপোরেট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) এবং খুচরা গ্রাহকদের ঋণ ও আমানতসেবা দেয়ার পাশাপাশি দায়িত্বশীল অর্থায়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই উন্নয়নে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।