সংগঠনটি বলছে, এ বাজেটে ঘাটতি মোকাবেলায় বৈদেশিক ঋণের চেয়ে অভ্যন্তরীণ উৎসকে গুরুত্ব দেয়া দেশীয় সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক বাজেট পেশের পর গতকাল এক সভায় চিটাগং চেম্বারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এ সময় চেম্বারের সাবেক সভাপতি আলী আহমেদ ও আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী; বর্তমান সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী; সহসভাপতি মোহাম্মদ মসিউল আলম স্বপন; পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী, আমান উল্লা আল ছগির (ছুট্টু), মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, মো. জাহিদুল হাসান, আসাদ ইফতেখার, এএসএম ইসমাইল খান, মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সরোয়ার আলম খান, শহীদুল আলম, মোহাম্মদ শফিউল আলম ও মো. সেলিম নুর উপস্থিত ছিলেন।

দেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প সামনে রেখে ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে চিটাগং চেম্বার। সংগঠনটি বলছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ঘোষিত এ বাজেট একাধারে জনতুষ্টিমূলক ও ব্যবসাবান্ধব। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং করজাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহের যে কৌশল নেয়া হয়েছে, তা দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।

জনগণের ওপর ভ্যাট ও করের চাপ কমিয়ে করজাল বাড়ানো এবং দেশী-বিদেশী উৎস থেকে অর্থসংস্থানের পরিকল্পনাসংবলিত এ বাজেটকে ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেছেন চেম্বার নেতারা।

সংগঠনটি বলছে, বাজেটে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা নিঃসন্দেহে চট্টগ্রামে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার কমানোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আবাসনসহ সব ধরনের ইউটিলিটি সেবা বাড়ানোর মাধ্যমে বিনিয়োগ উপযোগী করার আহ্বান জানান নেতারা।

চেম্বার নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে মানবসম্পদ উন্নয়ন তথা শিক্ষা খাতকে। ব্যক্তি করদাতাদের টার্নওভার করের আওতামুক্ত সীমা ৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি এবং ব্যাংক স্থিতির ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক অব্যাহতির সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে, এতে সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখতে উৎসাহী হবে।

চেম্বারের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, বাজেটে করপোরেট কর ব্যবস্থা সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করায় অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও ব্যবসার অনুমোদনযোগ্য খরচ বাড়ানো এবং করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখা ইতিবাচক।

এছাড়া আমদানীকৃত ১১৩টি পণ্যের রেগুলার ডিউটি প্রত্যাহার, নয়টি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং ৬৯টি পণ্যের কাস্টমস ডিউটি ২৫ থেকে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ, শিশু খাদ্য প্রস্তুতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কহ্রাস, সকল মসলা আমদানিতে রেগুলেটরি শুল্ক ও খেজুর আমদানিতে রেগুলেটরি শুল্ক ৫ শতাংশ প্রত্যাহার, পোলট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামালে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করায় মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছে চিটাগং চেম্বার।