ইউক্রেন চলতি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ চাহিদার তিন গুণ গম আহরণ সম্পন্ন করেছে। একই সময় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় দেশটি থেকে সূর্যমুখী তেল রফতানিও বেড়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ড্যানিস শিমগাল এসব তথ্য জানিয়েছেন। খবর ইউক্রেন বিজনেস নিউজ। 

ড্যানিস শিমগাল জানান, চলতি মৌসুমে ইউক্রেনের কৃষকরা প্রায় চার কোটি টন নতুন ফসল আহরণ করেছেন। এর মধ্যে গম প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টন, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০০ শতাংশ বেশি। ইউক্রেনে গমের অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রায় ৬০ লাখ টন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে ইউক্রেনের ওপর নির্ভর করে। এক্ষেত্রে গম উৎপাদন বাড়ায় ইউক্রেনের অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ড্যানিস শিমগাল। 

এদিকে ২০২৩-২৪ বিপণন বর্ষে ইউক্রেনে সূর্যমুখী তেল উৎপাদন ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এতে মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৬৬ লাখ টনে। একই সময় রফতানির পরিমাণ ১৭ শতাংশ বেড়ে ৬২ লাখ টনে পৌঁছেছে, যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধপূর্ব ২০২০-২১ বিপণন বর্ষের তুলনায় বেশি।

প্রথমবারের মতো ইউক্রেনে ১০ লাখ টন রেপসিড তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। তেলপণ্যটির রফতানি রেকর্ড ৪ লাখ ২৪ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। 

নতুন বিপণন বর্ষের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৯২ লাখ ৮০ হাজার টন শস্য ও ডালজাতীয় ফসল রফতানি করেছে ইউক্রেন। এর মধ্যে গম ৫২ লাখ ৬০ হাজার টন, যা গত বছর ছিল ২৮ লাখ ৩০ হাজার টন। 

সম্প্রতি ইউক্রেনের কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা ২০২৪-২৫ বিপণন বর্ষে গম রফতানির সীমা নির্ধারণে সম্মত হয়েছে। সম্প্রতি সরকার ও রফতানিকারকরা গম রফতানি সীমাসংক্রান্ত একটি চুক্তিতে সম্মত হয়। এ অনুসারে, চলতি বিপণন বর্ষে ইউক্রেন থেকে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৬২ লাখ টন গম রফতানি করা হবে। যেকোনো মানের গম এর আওতাভুক্ত হবে। রফতানির নির্ধারিত সীমা মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বিপণন বর্ষে ইউক্রেন ১ কোটি ৪০ লাখ টন গম রফতানি করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল ইউএসডিএ।