বাংলাদেশে জাপানি ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাপানের ওনোডেরা ইউজার রান কোং লিমিটেড, বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম), ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক সোশ্যাল ফাইন্যান্স (আইআইএসএফ) এবং রহিমআফরোজ একসঙ্গে কাজ করবে। এ সহযোগিতাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে।

আয়োজকরা জানান, এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যুবসমাজকে জাপানি ভাষায় দক্ষতা, প্রাসঙ্গিক পেশাগত যোগ্যতা এবং জাপানের কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা প্রদান করা। এর মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশ ও জাপানে বিশ্বাসযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং মর্যাদার সঙ্গে টেকসই জীবিকা অর্জনের জন্য প্রস্তুত করা হবে।

চারটি প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ নিজ অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সম্পদ কাজে লাগিয়ে এ উদ্যোগে পরিপূরক ভূমিকা পালন করবে। ওনোডেরা ইউজার রান কোং লিমিটেড জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থানমুখী প্রস্তুতি এবং কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি ও আচরণবিধি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়ায় নেতৃত্ব দেবে। জাপানের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান খাতে প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রহিমআফরোজ এ অংশীদারত্বে কৌশলগত সহায়তা প্রদান করবে। তরুণদের উন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করবে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে সহায়তা করবে বলে জানানো হয়।

সমঝোতা স্মারকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ওনোডেরা ইউজার রান কোং লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুন কাতো, সিজেডএমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া, আইআইএসএফের ভাইস চেয়ারম্যান আরাস্তু খান এবং রহিমআফরোজের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিয়াজ রহিম স্বাক্ষর করেন।

এ সময় ঢাকায় জাপান দূতাবাসের মিনিস্টার আয়া ইয়োশিদা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন শ্রমবাজার থেকে দক্ষ কর্মী গ্রহণে আগ্রহী। তবে জাপানে সফলভাবে কাজ করার জন্য আগ্রহী কর্মীদের জাপানি ভাষায় দক্ষতা, প্রাসঙ্গিক পেশাগত যোগ্যতা এবং জাপানের সংস্কৃতি ও কর্মক্ষেত্রের রীতিনীতি সম্পর্কে ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে জুন কাতো বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের তরুণদের অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দিই। এ উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা তাদের জাপানি ভাষায় দক্ষতা অর্জন, ব্যবহারিক পেশাগত যোগ্যতা উন্নয়ন এবং জাপানের কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভে সহায়তা করতে চাই। এর ফলে তারা অর্থবহ কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণ এবং কর্মক্ষেত্রে সফলভাবে নিজেদের সম্পৃক্ত করার জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন।’

নিয়াজ রহিম বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে অপরিসীম সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের অংশীদারদের পারস্পরিক পরিপূরক শক্তি ও অভিজ্ঞতাকে একত্রিত করে আমরা প্রাসঙ্গিক দক্ষতা, ভাষাগত যোগ্যতা, দায়িত্বশীল কর্মচর্চা এবং মর্যাদাপূর্ণ কাজের মাধ্যমে তাদের মেধা ও প্রতিভার সঙ্গে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগের সংযোগ ঘটাতে চাই।’

ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, ‘প্রাসঙ্গিক দক্ষতা, মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং বিশ্বাসযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তরুণ-তরুণী ও তাদের পরিবারের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে সিজেডএম সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর তরুণদের কর্মসংস্থানের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম, নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অধিকতর অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও মর্যাদা অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে চায়।’