চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে শনিবার বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ট্রেড স্পেশালিস্ট সত্য প্রসাদ সাহুর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী; বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (ডিজিটাল পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম ইনফ্রাস্ট্রাকচার) প্যাসকাল অলিভিয়ের ও কনসালট্যান্ট (পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম লজিস্টিকস) আহমেদুল করিম চৌধুরী এবং ক্যাপ্টেন মো. নাসির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
চেম্বার সভাপতি বলেন, ‘দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে বন্দর ও মেরিটাইম ট্রেড লজিস্টিকসের আধুনিকায়ন সময়ের দাবি। এটা ডিজিটালাইজেশন করা গেলে ব্যবসার ব্যয় কমবে, পণ্য খালাসে সময় হ্রাস পাবে এবং সাপ্লাই চেইনের দক্ষতা বাড়বে। এর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরো গতিশীল হবে।’ তিনি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ (ডিরেগুলেশন) ও বিকেন্দ্রীকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বন্দর ডিজিটালাইজেশনের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী কাস্টমস ব্যবস্থারও আধুনিকায়ন প্রয়োজন।’ তিনি পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম, পেপারলেস ট্রেড, ই-পেমেন্ট এবং সমন্বিত ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ, শিপিং লাইন, ব্যাংক, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ট্রেড স্পেশালিস্ট সত্য প্রসাদ সাহু বলেন, ‘বন্দর ও মেরিটাইম ট্রেড লজিস্টিকস ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমবে, কনটেইনার জট হ্রাস পাবে, লেনদেন ব্যয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস পারফরম্যান্স সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি হবে।’ তিনি এ খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার নির্ধারণে গবেষণার ভিত্তিতে সরকারের কাছে সুপারিশ তুলে ধরার কথাও জানান।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র কনসালট্যান্ট প্যাসকাল অলিভিয়ের বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষ বন্দরগুলোয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ব্লকচেইন, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), বিগ ডেটা অ্যানালিটিকস, স্মার্ট কার্গো ট্র্যাকিং এবং স্বয়ংক্রিয় অপারেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম চালু রয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে বন্দরসংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্লাটফর্মে আনা সম্ভব হবে।’ যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরো গতিশীল করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।










