পোশাক শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং শিল্পকে সামনে এগিয়ে নিতে ১৪টি বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

আজ শনিবার (১৯ অক্টোবর) উত্তরায় অবস্থিত বিজিএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি এসব আহ্বান তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সরকার, মালিক, শ্রমিক, সেনাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকলের সহযোগিতায় সাম্প্রতিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে বিজিএমইএ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় রফতানি খাতে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। সে সক্ষমতা ধরে রাখতে সরকারের সহযোগিতা চায় বিজিএমইএ।

দাবিগুলো হলো— শিল্পে সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কাস্টমস বন্দর সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলো সহজ ও দ্রুততর করা, চট্টগ্রাম বন্দরে পূর্ণ লোডিং ও আনলোডিংয়ে অহেতুক সময়ক্ষেপণ বন্ধ করা, চলমান ক্রান্তিকালে পরবর্তী ৩ মাসের জন্য কারখানার ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা।

ব্যাংকখাতের সংস্কার যেন উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব না রাখে এবং ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কারণে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়- সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান বিজিএমইএ সভাপতি।

এছাড়া বিভিন্ন নীতি প্রণয়নেরও আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ। এরমধ্যে রয়েছে— শিল্পকে ব্যবসাবান্ধব করতে যথাযথ নীতি সহায়তা প্রনয়ণের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংক সমন্বয়ে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা, শিল্পে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত ও বিদ্যুতের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণসহ একটি টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করা এবং সব ধরনের ঋণের বিপরীতে ঋণ শ্রেণিকরণ না করে ঋণ পরিশোধে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের জারিকৃত বিআরপিডি সার্কুলার অনুযায়ী পুনঃতফসিলকরণের সুযোগ প্রদান করা।

বাকি দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— তৈরি পোশাক কারখানাসমূহের স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জরুরি ভিত্তিতে সিএনজি স্টেশন হতে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের নিমিত্তে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করা, ঝুটসহ অন্যান্য রিসাইক্লিং উপযোগী বর্জ্য অপসারণকে বাইরের প্রভাবমুক্ত রাখা, পোশাকখাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রণোদনা পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনা করা, পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য একটি নিরাপদ এক্সিট পলিসির ব্যবস্থা করা ও শিল্পে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের কঠোর আইনের আওতায় আনা।