প্রতি বছর নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশে কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হয়। খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি ও শৈত্যপ্রবাহ প্রায়ই কৃষকদের জীবনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ বছরও স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, রংপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শীতকালীন সবজির বীজতলাও।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষকদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে দেশের একমাত্র গবেষণাভিত্তিক বেসরকারি কৃষি প্রতিষ্ঠান এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (একেবাকৃবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টায় আমনুরা ক্যাম্পাসের গবেষণা মাঠে লাউ, বেগুন ও মরিচের চারা উৎপাদন করা হয়, যা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার রানীহাটি ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের প্রায় তিনশ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
চারা বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আফতাবুজ্জামান-আল-ইমরান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নয়ন মিয়া। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় আয়োজিত এই চারা বিতরণ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন একেবাকৃবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. সাহেব আলী প্রামাণিক।
প্রধান অতিথি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ যে চারা উৎপাদন ও বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসার যোগ্য। আমরা উপজেলা প্রশাসন সবসময় এ ধরনের মহৎ উদ্যোগের পাশে থাকব।
বিশেষ অতিথি কৃষিবিদ মো. নয়ন মিয়া বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একেবাকৃবির এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের পাশে থাকবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. সাহেব আলী প্রামাণিক বলেন, 'এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একমাত্র গবেষণাধর্মী বেসরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করছি। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এখানকার জনগণের কল্যাণে। কৃষি সমস্যার সমাধানে আমরা সব সময় সচেষ্ট থাকব।'
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে একেবাকৃবি রাস্তার পাশে এক হাজারের বেশি তালবীজ রোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। —বিজ্ঞপ্তি










