প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পঘনিষ্ঠ চার্লি কার্কের মৃত্যু নিয়ে রিপাবলিকানরা রাজনৈতিক মুনাফা লোটার পাঁয়তারা করছে বলে মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জিমি কিমেল। এর সূত্র ধরে বন্ধ হয়ে যায় এবিসি চ্যানেলে প্রচারিত ‘জিমি কিমেল লাইভ!’ নামের লেটনাইট শো। প্রায় এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর অনুষ্ঠানটি পুনরায় চালুর ঘোষণা এলেও এরই মধ্যে আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে এবিসি ও প্যারেন্ট কোম্পানি ওয়াল্ট ডিজনি। খবর ফক্স বিজনেস ও দ্য হিন্দুস্থান টাইমস।
একাধিক বিশ্লেষকের মতে, জিমি কিমেলের অনুষ্ঠান বন্ধের রাজনৈতিক প্রভাব যেমন রয়েছে, তেমনি এর অর্থনৈতিক ক্ষতিও রয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত ডিজনির অধীনস্থ অন্যান্য ব্যবসাকেও প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে।
ডিজনির এক মুখপাত্র দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি বিবেচনা করে জিমি কিমেল লাইভ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কারণ তার কিছু মন্তব্য ছিল সংবেদনশীল। কয়েক দিন আলোচনার পর অনুষ্ঠানটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিমি কিমেলের মন্তব্যের পর দ্রুত শো বন্ধ করে এবিসি ও ডিজনি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে যায়। বিষয়টি দর্শকদের ক্ষোভের কারণ হয়ে ওঠে। জনপ্রিয় অনুষ্ঠান সরিয়ে নেয়ার প্রভাব পড়ে বিজ্ঞাপনের ওপরও।
২০১৮ সালের পর লেটনাইট শো থেকে আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কিন্তু এখনো মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেলে স্লটটি বিজ্ঞাপনী আয়ের অন্যতম উৎস। ব্র্যান্ড বিশেষজ্ঞ ও পাবলিসিস্ট ক্রিস্টাল গর্জেস মনে করেন, দর্শক মনস্তত্ত্বের দিক থেকে জিমি কিমেল লাইভ বন্ধ রাখা সংশ্লিষ্টদের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘এবিসি ও ডিজনি ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) চাপের মুখে রয়েছে। তাই শো বাতিলের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক সম্মতি হিসেবে দেখতে পারেন দর্শকরা।’
ক্রিস্টাল গর্জেসের মতে, এখানে বিজ্ঞাপনদাতাদের তুলনায় বড় ঝুঁকি হলো দর্শক। যদি মনে করে শো বন্ধ করা হয়েছে কণ্ঠরোধ বা সেন্সরশিপের জন্য, তখন তারা সাবস্ক্রিপশন বাতিল করতে পারে বা দেখাই বন্ধ করতে পারে। এটাই দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে শো বন্ধের সিদ্ধান্তকে ঠিক মনে করেন মিডিয়া এজেন্সি স্টোরি গ্রুপের সিইও অ্যারন ইভান্স। তিনি বলেন, ‘দর্শকের বিশ্বাস হারানোর ঝুঁকি কিছুটা রয়েছে। তবে কিমেলকে রাখলে বিজ্ঞাপনদাতাদের বড় একটি অংশ চলে যেত এবং সঙ্গে সঙ্গে ডিজনিও কোটি কোটি ডলার আয় হারাত। কারণ বড় ভোক্তা ব্র্যান্ড কখনই চাইবে না, তাদের লোগো এমন কনটেন্টের পাশে চলুক যা দেশের অর্ধেক মানুষের কাছে অবমাননাকর বা অসংবেদনশীল মনে হয়।’
জিমি কিমেলকে এক সপ্তাহ পর পুনরায় অনএয়ারে ফিরিয়ে আনছে ডিজনি। কিন্তু এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে এবিসি ও ডিজনির বিরুদ্ধে বয়কট হ্যাশট্যাগ। অনেক গ্রাহকও ডিজনির সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছেন। বলা হচ্ছে, ডিজনি প্রায় ৪০০ কোটি ডলার ক্ষতির শিকার হয়েছে। যদিও এ দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই। তবে শেয়ারদরের প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ পতনে ৩৮৭ কোটি ডলার হারিয়েছে কোম্পানিটি।
ডিজনি ও এবিসির সামনে আরো আর্থিক ঝুঁকি রয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বড় দুই অ্যাফিলিয়েট স্টেশন পরিচালনাকারী নেক্সস্টার ও সিনক্লেয়ার ‘জিমি কিমেল লাইভ’ প্রচার না করার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে।
বড় পরিসরে ডিজনি ও এবিসির ক্ষতির পাশাপাশি জিমি কিমেল লাইভের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তেন। অনুষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হলে এর অর্থনৈতিক প্রভাব লস অ্যাঞ্জেলেসজুড়ে পড়ত। অঞ্চলটিতে কভিড মহামারী ও শোবিজে বড় ধর্মঘটের পর টিভি ও ফিল্ম শিল্পকে পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চলছে।
শিল্প পর্যবেক্ষকরা বলেন, শো বন্ধ হলে প্রযোজনা সহায়ক থেকে স্টেজ কর্মী পর্যন্ত সবাই প্রভাবিত হবেন। জিমি কিমেলের শোর মূল দলে কর্মীর সংখ্যা কয়েক ডজন। কিন্তু পুরো প্রযোজনার সঙ্গে বিভিন্ন খাতের শতাধিক মানুষ যুক্ত।
সিবিএসে জেমস কর্ডেনের লেটনাইট শো বন্ধ হওয়ার পর জিমি কিমেলের অনুষ্ঠানই প্রথাগত মিডিয়ার জন্য লস অ্যাঞ্জেলেসে নির্মিত একমাত্র শো। অনেকে বলছেন, রাজনৈতিক বিধিনিষেধ বাড়লে জিমি কিমেল, স্টিফেন কোলবের্ট ও অন্য লেটনাইট হোস্টরা নন-লিনিয়ার প্লাটফর্ম বেছে নিতে পারেন। যেমন ইউটিউবে দুই কোটির বেশি সাবস্ক্রাইবার আছে জিমি কিমেলের। লেটনাইট হোস্টরা অন্য প্লাটফর্মে চলে গেলে তাদের অনুষ্ঠানের পরিসর ছোট হয়ে যাবে। এতে প্রডাকশন টিম ছোট হয়ে যাবে। বিষয়টি একই সঙ্গে কারিগরি টিম ও টিভি ইন্ডাস্ট্রি উভয় পক্ষের জন্যই ক্ষতির কারণ হবে।















