মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ সংকট সামাল দিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য দেশগুলো জরুরি মজুদ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছাড়ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যৌথ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩২ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে। খবর দ্য বিজনেসলাইন।
আইইএ সদস্য দেশগুলো গত মার্চে মোট ৪০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন পর্যন্ত নির্ধারিত সে লক্ষ্যের ৮০ শতাংশেরও বেশি তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে।
শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি৭-এর শীর্ষ নেতাদের এক ভার্চুয়াল বৈঠক গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাজারের অস্থিরতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘গত ১১ মার্চ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের জরুরি মজুদ ছাড়ার যৌথ ঘোষণা দেয়া হয়। এ পদক্ষেপ জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে দারুণ কাজ করেছে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা ও স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।’
জরুরি মজুদ থেকে তেল ছাড়া হলেও বাজারের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে সতর্ক করেছেন ফাতিহ বিরোল। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি সংকটের তীব্র প্রভাব এখনো বিশ্বজুড়ে বহাল রয়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের বাজারে এর চাপ সবচেয়ে বেশি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি কিছুটা বেড়েছে। তবে পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ফলে বাজারে ডিজেলের এ তীব্র সংকট বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।’
আইইএ প্রধান আরো জানান, রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন কমে গেছে। তাই বাজারে ডিজেল সরবরাহ দিন দিন কমছে এবং এর দাম লাফিয়ে বাড়ছে।
প্যারিসভিত্তিক সংস্থা আইইএর ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় জরুরি মজুদ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছাড়ার ঘটনা। গত মার্চে সংস্থাটির সব সদস্য দেশ সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ওই সময় আইইএ প্রধান বলেছিলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে জ্বালানি তেল সরবরাহ বাড়ানো যেমন জরুরি, তেমনি ওই প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল ফিরিয়ে আনাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
পরিস্থিতি আরো উন্নত করতে এবং বর্তমান জ্বালানি সংকট কমাতে জি৭ নেতারা আরেকটি নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আইইএর মাধ্যমে রিজার্ভ থেকে বাজারে আরো ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। যৌথ এ ঘোষণা অনুযায়ী, চার মাসের মধ্যে এ তেল বাজারে আনা হবে। তবে ডিজেলের ঘাটতি কমাতে প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ বাজারে সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ডিজেল উৎপাদন বাড়াতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। জি৭-ভুক্ত দেশগুলো নিজস্ব শোধনাগারগুলোর মেরামত কাজের সময় সমন্বয় করবে। এতে একসঙ্গে একাধিক শোধনাগারে উৎপাদনকাজ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। এছাড়া যেসব দেশে বড় শোধনাগার রয়েছে, তাদের ডিজেল উৎপাদন বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরো অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছাড়ার প্রয়োজন আছে কিনা, তা নিয়মিত তদারক করবে আইইএ।










