নাটোরে চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৫০০ টন পেঁয়াজ উৎপাদনের প্রত্যাশা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এরই মধ্যে জমি থেকে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ তুলতে শুরু করেছেন কৃষক। ফলে বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। এবার ভালো ফলনের পাশাপাশি দামও বেশি পাওয়ায় খুশি কৃষক।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় জেলায় এককভাবে পেঁয়াজ চাষের পাশাপাশি মিশ্র চাষ পদ্ধতিও দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নলডাঙ্গা উপজেলার মিশ্র চাষী শহিদুল ইসলাম জানান, এ বছর তিনি কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় পেয়ারা বাগানের ভেতর দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। এরই মধ্যে পেঁয়াজ তোলা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার পেঁয়াজের চাষ করে ভালো ফলন হয়েছে। দামও ভালো পাচ্ছি। জমিতেই ৯০-১০০ টাকা কেজি দাম হাঁকছে পাইকাররা।’‌

পেঁয়াজের দাম নিয়ে বছরজুড়েই ছিল আলোচনা। বিশেষ করে বছরের শেষ দিকে সরবরাহ কমে দাম বেড়ে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির। সংকট কাটাতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের সার, বীজ ও নানা উপকরণ বিনামূল্যে দিয়ে সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ। এতে একজন কৃষকের পেছনে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, ভারতীয় নাসিক-এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ বীজ রোপণ থেকে ঘরে তুলতে ৯০-১০০ দিন সময় লাগে। তবে এ জাত থেকে পরবর্তী সময়ে রোপণের জন্য বীজ সংগ্রহ করা যায় না। এজন্য বারি-৫ জাতের পেঁয়াজ চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার ফৌজিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশ চড়া। এ সময় কৃষক পেঁয়াজ তুলতে পারায় বেশি দাম পাচ্ছেন। এমনকি পেঁয়াজের পাতা বিক্রি করেও লাভবান হচ্ছেন তারা।’

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘এ বছর নাটোরে ৯৩ হেক্টর (২৩০ একর প্রায়) জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ করা হয়েছে। এসব জমিতে আড়াই হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে বলে আশা করছি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৩ কোটি টাকা।’‌ নতুন পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম কমবে বলেও মনে করেন তিনি।