সমুদ্রের গভীরে এমন এক জগৎ আছে, যেখানে সূর্যের আলো কখনো পৌঁছায় না। সেখানে নেই দিনের আলো, নেই কোনো রঙিন প্রবাল প্রাচীর। আছে শুধু অন্ধকার আর অদ্ভুত নীরবতা। তবুও এই অচেনা দুনিয়ায় জীবন আছে। ভাবুন তো ছোট ছোট ঝিনুক আর সরু কীটেরা মিথেন গ্যাসের শক্তিতে টিকে আছে, যেন সূর্যের পরিবর্তে তারা পেয়েছে নিজের এক বিকল্প আলো।

চীনের ভূ-রসায়নবিদ মেংরান ডুর নেতৃত্বে একটি দল সাবমেরিনে চড়ে রাশিয়া ও আলাস্কার মাঝের গভীর সমুদ্র খাদে নেমে পড়েন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,৮০০ থেকে ৯,৫০০ মিটার নিচে গিয়ে তারা যা দেখলেন, তা আগে কেউ দেখেনি! অসংখ্য অজানা প্রজাতির ঝিনুক আর কীট, যারা সূর্যের আলো না পেয়েও প্রাণবন্ত।

পরে রহস্যের সূত্র মিলল তাদের শরীরের ভেতরে। তাদের শরীরের ভেতরে থাকে অতি ক্ষুদ্র কিছু ব্যাকটেরিয়া, যারা মিথেন ও হাইড্রোজেন সালফাইডকে খাদ্যে পরিণত করে। আর এই ব্যাকটেরিয়াই তাদের টিকে থাকার শক্তি জোগায়।

এতদিন ধারণা ছিল, গভীর সমুদ্রের এমন প্রাণীরা শুধু উপর থেকে ভেসে আসা মৃত পদার্থ খেয়ে বেঁচে থাকে। কিন্তু এখানে দেখা গেল, তারা নিজেরাই রাসায়নিক শক্তি থেকে খাদ্য তৈরি করছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই খাদগুলো শুধু অদ্ভুত জীবের বাসস্থান নয়, পৃথিবীর কার্বন চক্রেরও বড় একটি অংশ। সমুদ্রতল থেকে ৭০ গুণ বেশি জৈব কার্বন জমে থাকতে পারে এখানে, যা জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই গভীর খাদগুলো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন নয়। উপরের জগতের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ আছে। নতুন প্রযুক্তি দিয়ে ধীরে ধীরে এই প্রাণীদের টিকে থাকার কৌশল বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে তুলে আনছেন।


—সিএনএন