জলরং, অ্যাক্রিলিক আর কফি রঙে আঁকা ৫৯টি ছবি নিয়ে ‘কল্পনার রাজ্যে দগ্ধ অভিব্যক্তি’ শীর্ষক সুপর্ণা এলিস গমেজের প্রথম একক চিত্রপ্রদর্শনী শুরু হয়েছে গতকাল। রাজধানীর ধানমন্ডির সফিউদ্দীন শিল্পালয়ে চিত্রশিল্পী শহিদ কবির, জি এম খলিলুর রহমান, মিন্টু দে ও সুপর্ণা এলিস গমেজকে নিয়ে প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। উদ্বোধনের পর তারা প্রদীপ প্রজ্বালন করেন।
উদ্বোধনী আয়োজনে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘তিনি যেমন ছবি আঁকেন, তেমনি কবিতা–গল্প লেখেন, আবার তার কণ্ঠেও আছে সুর। গৃহস্থালীর রন্ধনশিল্প সামলে, সন্তান লালন-পালন করে কোনো বাঙালি রমনীর এমন বহুমুখী শিল্পের সাধনা আমার চোখে সচরাচর খুব একটা পড়ে না।’
তিনি আরো বলেন, এটি সুপর্ণা এলিস গমেজের প্রথম একক চিত্রপ্রদর্শনী। একসঙ্গে তার অনেকগুলো কাজ দেখার সুযোগ হলো আমাদের। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিল্পীর নতুন যাত্রাপথ তৈরি হতে চলেছে। তার চিত্রভাষা, বিষয়বস্তু, এমনকি বহুমাধ্যমও জানান দেয় তার সেই বহুমুখী শিল্প পিপাসার।
উদ্বোধনী আয়োজনে বক্তব্য দেন মতিউর রহমান, শহিদ কবির, জি এম খলিলুর রহমান, মিন্টু দে ও সুপর্ণা এলিস গমেজ।
সুপর্ণা এলিস গমেজ বলেন, ‘যাপিত জীবনের নানা মুহূর্ত পুরোনো হয়ে যায়। একসময় মরচে পড়ে যায়। অনেক সময় আগুনে পুড়ে যায়। সেই দগ্ধ অভিব্যক্তি রং দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।’
শিল্পী মিন্টু দে বলেন, ‘শিল্পীর আঁকা ছবিগুলো দেখে অভিভূত হই। তিনি কত সহজ ও সবলীলভাবে বিষয়বস্তুগুলোকে তার তুলির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।’
জি এম খলিলুর রহমান বলেন, ‘শিল্পীর আাঁকা ছবিগুলো বাস্তবধর্মী। অ্যাক্রলিক, জলরঙ ও কফি রঙে আঁকা ছবিগুলোতে শিল্পী তার নিজস্বতা বজায় রেখেছেন। খুব বেশি রঙের আধিক্য নেই। রঙের ব্যবহারে তিনি অত্যন্ত সাবধানী এবং রঙের স্বচ্ছতা অত্যন্ত সুকৌশলে ব্যবহার করতে পেরেছে।’
চিত্রশিল্পী শহিদ কবির বলেন, ‘শিল্পীর কাজগুলো খুবই মনোক্রমিক। কোনো রংই কোনো রঙের প্রতিদন্ধী নয়। আর খুব ইনোসেন্ট। ছবিতে ইনোসেন্সি রাখা খুব মুশকিল, আমরা সেটা পারি না। কিন্তু সুপর্ণার ছবিতে ইনোসেন্সি আছে। এটা আমার খুব ভালো লেগেছে। অনেক কালার ব্যবহার করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনে হচ্ছে, দু-তিনটা রঙ।’
প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে ‘‘কল্পনার রাজ্যে দগ্ধ অভিব্যক্তি’। প্রদর্শনী শেষ হবে আগামী ১৪ এপ্রিল।
আয়োজনটি সঞ্চালনা করেছেন মুক্তা মজুমদার। প্রদর্শনীতে আর্থিক সহযোগিতা করেছে সিটি ব্যাংক।










