পিরামিড আর রহস্য যেন সমার্থক দুই শব্দ। জল্পনা-কল্পনা,
ধর্ম বা পুরাণ; কোথায় নেই প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার সঙ্গে জড়িত এই স্থাপনা। হাজার হাজার
বছর ধরে ওই অঞ্চলের মানুষকে নতুন অর্থ দিয়েছে পিরামিড। অথচ এর অনেক কিছুই এখনো স্পষ্ট
হয়নি। মেলেনি অনেক প্রশ্নের উত্তর।
সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে নতুন ধাঁধা। সাড়ে চার হাজার বছরের পুরোনো গিজার পিরামিডে মিলেছে নয় মিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ। মিসরীয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর আশা করছে, শিগগিরই চমকে দেয়া কোনো তথ্য সামনে আসতে চলেছে।
ছবি: সিএনএন
প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্বর্যের একটি গিজার
পিরামিড। ২০১৫ সাল থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ
করা হচ্ছে এই পাথুরে অবয়ব। থ্রিডি সিমুলেশন ও কসমিক রে ব্যবহার করে চালানো হচ্ছে তল্লাশি।
যদি নতুন কিছু মিলে! ফলশ্রুতিতেই নতুন এ সুড়ঙ্গের আবিষ্কার।
২০১৭ সালে স্ক্যান প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়েই
৩০ মিটার দীর্ঘ শূন্যস্থান আবিষ্কৃত হয়। ১৯ শতকের পর এটিই পিরামিডে সবচেয়ে বড় আবিষ্কার। এখন পথটিকে নতুন কোনো তথ্যের ইঙ্গিত হিসেবে
বিবেচনা করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা।
ধারণা করা হচ্ছে, সুড়ঙ্গটি হয়তো নিয়ে যাবে অনাবিষ্কৃত কোনো চেম্বারে। অথবা মিলতে পারে নতুন কোনো সুড়ঙ্গ। এর যেকোনো একটি হলেও নতুন কিছু পাওয়ার আশা করছেন মোস্তফা ওয়াজিরি। মিসরের প্রত্নতাত্ত্বিক সুপ্রিম কাউন্সিলের প্রধান সম্প্রতি পিরামিডের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, আমরা স্ক্যান চালিয়ে যেতে চাই। ভেতরে লুকিয়ে থাকা রহস্য উন্মোচন করতে চাই। অন্তত দেখতে চাই সুড়ঙ্গের শেষ মাথায় কী রয়েছে।
ছবি: সিএনএন
খ্রিষ্টপূর্ব ২৫৬০ অব্দে ফারাও খুফুর আমলে
নির্মিত হয় গিজার পিরামিড। তখন ১৪৬ মিটার উচ্চতা ছিল, বর্তমানে অবশ্য ১৩৯ মিটারে ঠেকেছে।
১৮৮৯ সালে আইফেল টাওয়ার নির্মিত হওয়ার আগে পর্যন্ত গিজার পিরামিডটিই ছিল মানব নির্মিত
সর্বোচ্চ স্থাপনা।
২৩ লাখ বড় বড় পাথরের ব্লক নিয়ে মোট ৬০ লাখ
টন ভরের পিরামিড প্রাচীন মানুষের আশ্চর্য কীর্তির দলিল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে গিজার মরুভূমিতে।
যার রহস্য যতই উম্মোচিত হচ্ছে, ততই যেন বাড়ছে দিন দিন।










