বিশ্বজুড়ে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ইলেকট্রিক বাইক বা ই-বাইকের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী হওয়ায় এখন সাধারণ সাইকেলের বদলে ই-বাইক বেছে নিচ্ছেন অনেকেই। তবে জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় এক দুর্ঘটনায় পথচারী গুরুতর আহত হওয়ার পর ই-বাইকের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখন ই-বাইক চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর আইন ও জনসচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছেন।
মিনেসোটার ওই দুর্ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের ই-বাইকের ধাক্কায় জেনেট স্টোটকো নামের এক নারী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার সময় ঘণ্টায় প্রায় ২৫ মাইল বেগে বাইক চালাচ্ছিল ওই কিশোর। এই সংঘর্ষে ওই নারীর মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ই-বাইকের গতি সাধারণ সাইকেলের চেয়ে অনেক বেশি। সাধারণত ই-বাইকগুলো ঘণ্টায় ২০-২৮ মাইল পর্যন্ত গতি তুলতে পারে। কিছু উন্নত মডেল তো ঘণ্টায় ৪০ মাইল পর্যন্ত চলতে সক্ষম
ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৭-২২ সালের মধ্যে ই-বাইক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা প্রতি বছর দ্বিগুণ হয়েছে। বিশেষ করে ১৮ বছরের কম বয়সী চালকদের মধ্যে হতাহতের হার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

ই-বাইকজনিত দুর্ঘটনা থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে চালু হচ্ছে নতুন নিয়ম। ছবি: এপি
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, অনেক দেশেই ই-বাইককে সাধারণ সাইকেলের মতো বিবেচনা করা হয়। ফলে এটি চালানোর জন্য লাইসেন্স, বিমা বা হেলমেট পরার বাধ্যবাধকতা থাকে না। তবে ই-বাইকের গতি সাধারণ সাইকেলের চেয়ে অনেক বেশি। সাধারণত ই-বাইকগুলো ঘণ্টায় ২০-২৮ মাইল পর্যন্ত গতি তুলতে পারে। কিছু উন্নত মডেল তো ঘণ্টায় ৪০ মাইল পর্যন্ত চলতে সক্ষম। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চগতির কারণে ই-বাইকের সংঘর্ষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে।
শিশুদের ই-বাইক দেয়ার আগে তাদের সাধারণ সাইকেল চালানো এবং রাস্তার নিয়ম সম্পর্কে দক্ষ করে তোলা প্রয়োজন। ই-বাইক যেন বিপদের কারণ না হয়, সেদিকে চালকদের আরো সচেতন হতে হবে
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে এখন নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি ই-বাইকের জন্য ঘণ্টায় ১৫ মাইল গতিসীমা নির্ধারণ করেছে। কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে ই-বাইক চালকদের জন্য হেলমেট বাধ্যতামূলক এবং শক্তিশালী মডেলের বাইক চালানোর জন্য লাইসেন্স নেয়ার নিয়ম করা হয়েছে। এসব আইন চালক ও পথচারী উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, ই-বাইক কেনার আগে এর সক্ষমতা ও গতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিতে হবে। নিরাপদ থাকতে সব সময় উন্নতমানের হেলমেট ব্যবহার করা জরুরি। এছাড়া রাতে চলাচলের সময় বাইকে পর্যাপ্ত আলো এবং ‘রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট’ বা আলো প্রতিফলিত হয় এমন পোশাক পরা উচিত।
শিশুদের ই-বাইক দেয়ার আগে তাদের সাধারণ সাইকেল চালানো এবং রাস্তার নিয়ম সম্পর্কে দক্ষ করে তোলা প্রয়োজন। ই-বাইক যেন বিপদের কারণ না হয়, সেদিকে চালকদের আরো সচেতন হতে হবে। ই-বাইকের এ ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের যুগে পথচারী ও চালক সবার নিরাপত্তার জন্যই সঠিক আইন ও তার প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।
এপি অবলম্বনে










