সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে ৭ হাজার পা হাঁটা শরীর ও মনের সুস্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট কার্যকর। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মেলোডি ডিং-এর নেতৃত্বে করা বিশ্লেষণে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য খতিয়ে দেখে এ পর্যবেক্ষণ জানানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই সবাই বলে আসছে, সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটতেই হবে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দেখা গেল, এই সংখ্যা আদৌ বাধ্যতামূলক নয়। আসলে মাত্র ৭ হাজার পা হাঁটলেই অনেক বড় বড় রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, প্রতিদিন অন্তত ৭ হাজার পা হাঁটেন তাদের ক্যানসারে মৃত্যুঝুঁকি ৩৭ শতাংশ কমেছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমেছে ১৪ শতাংশ, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমেছে ৩৮ শতাংশ, বিষণ্নতা কমেছে ২২ শতাংশ, হৃদরোগের ঝুঁকি কমেছে ২৫ শতাংশ এবং সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকি কমেছে প্রায় ৪৭ শতাংশ।

অধ্যাপক মেলোডি ডিং বলেন, যারা আগে থেকেই ১০ হাজার পা হাঁটেন, তাদের সেই অভ্যাস অব্যাহত রাখা উচিত। কিন্তু যারা এখনও খুব কম হাঁটাচলা করেন, তাদের জন্য ৭ হাজার পা হাঁটা একটি স্বাস্থ্যকর ও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য।

কম হাঁটাতেই বেশি উপকার
গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, শুধু বেশি হাঁটা নয়, নিয়মিত হাঁটা-হাঁটিই করাটাই সবচেয়ে জরুরি। এমনকি যারা দিনে মাত্র ৪ হাজার পা হাঁটেন, তাদের ক্ষেত্রেও রোগের ঝুঁকি অনেক কম। প্রতিটি বাড়তি পা হাঁটা মানেই বাড়ছে সুস্থ থাকার সম্ভাবনা।

শুধু হাঁটলেই হবে?
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাঁতার, সাইক্লিং কিংবা রোয়িংয়ের মতো ব্যায়াম হাঁটা হিসেবে ধরা হয় না। তবু হাঁটা সবচেয়ে সহজ ও প্রায় সবার পক্ষে সম্ভব এমন ব্যায়াম।

ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের জুন ডেভিসন মনে করিয়ে দেন, অফিসে হেঁটে ফোন ধরা, লাঞ্চে পর ১০ মিনিট হাঁটা কিংবা সন্ধ্যায় কিছুটা হাঁটা-হাঁটি— এর সবই শরীরচর্চা হিসেবে গণ্য হয়।

আপনার সুস্থতা নির্ভর করে দিনে হাজার হাজার পদক্ষেপে নয়, বরং আপনি কতটা সচল আছেন তার ওপর। তাই আজ থেকেই শুরু করুন নিয়মিত হাঁটা, ৭ হাজার পদক্ষেপই হবে যথেষ্ট!