চীনের ইয়াংজি নদী। একসময় এ নদীতে নির্ভার ভেসে বেড়াত একপ্রকার পাখাবিহীন শুশুক। নদীর ঢেউয়ে তারা খেলত, মানুষের চোখে ধরা দিত মুহূর্তের জন্য। আজ সেই শুশুক প্রায় বিলুপ্ত। চোখের সামনে থেকে হারিয়ে যাওয়া সে প্রাণীকে ফেরাতে এবার কবিতার কাছে ফিরলেন বিজ্ঞানীরা।

চীনের পূর্বাঞ্চলের গবেষকেরা শত শত বছরের পুরনো কবিতার খোঁজে নেমেছেন। থাং থেকে কিং রাজবংশ—৮৩০ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু করে প্রায় ১২০০ বছরের চীনা কবিতা ঘেঁটে তারা খুঁজেছেন সেই সময়ের শুশুকের বর্ণনা। কবিতায় নদীর বর্ণনার সঙ্গে কোথাও ভেসে উঠেছে শুশুকের ছবি—ঢেউয়ের ভাঁজে ভেসে ওঠা রুপালি ছায়া। সেটাই হয়েছে বিজ্ঞানীদের মানচিত্র তৈরির সূত্র।

গবেষণায় দেখা গেছে, একসময় যেসব নদী খাত ও হ্রদে শুশুকের আনাগোনা ছিল, এখন তার ৬৫ শতাংশই হারিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বিগত শতকে। গবেষকদের ভাষায়, অবৈধ মাছ ধরা, নদী দূষণ, বাঁধ নির্মাণ ও বালু উত্তোলনের কারণে এ বিপন্নতা তৈরি হয়েছে।

গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য ঝিগাং মেই বলেন, আমরা পুরনো জেলেদের কাছ থেকে শুনেছি, আগে তারা যেখানে শুশুক দেখত, এখন সেখানে নিস্তব্ধতা। এ অভাববোধই আমাদের কবিতার কাছে ফিরিয়ে নেয়।

Capture

এটি ওয়াং কি (১৫৭৩-১৬২০) থেকে সংকলিত মিং রাজবংশের একটি কবিতা। এই কবিতায় সেই আমলের ইয়াংজি শুশুকের চেহারা ও স্বভাবের বর্ণনা রয়েছে।

মানুষের সঙ্গে শুশুকের সম্পর্কের গল্পও উঠে এসেছে এ গবেষণায়। প্রাচীন চীনা কবিরা শুশুকের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তাদের কবিতায় বর্ণনা দিয়েছেন। এক অর্থে শুশুক হয়ে উঠেছে মানুষের আবেগ, নদীর জীবনের অংশ। অথচ এখন নদীতে নেমেও তারা আর চোখে পড়ে না।

শুধু কবিতা নয়, গবেষকেরা মিলিয়ে দেখেছেন কবিদের জীবনকাল, অবস্থান ও কবিতার স্থান বর্ণনা। তাতে তৈরি হয়েছে শুশুকের এক ঐতিহাসিক মানচিত্র—যা হতে পারে ভবিষ্যতের সংরক্ষণ উদ্যোগের রূপরেখা।

গবেষক ইয়াওইয়াও ঝাং বলেন, এ প্রাণীটি কেবল নদীর বাসিন্দা নয়। এটি আমাদের সংস্কৃতিরও অংশ। আমরা যদি শুশুককে ভালোবাসতে শিখি, তবে হয়তো ওরাও ফিরে আসবে নদীতে।

আশা জাগানো এ উদ্যোগ দেখিয়ে দিল—প্রকৃতির ইতিহাস শুধু বৈজ্ঞানিক ডাটায় নয়। কখনো কখনো তা লুকিয়ে থাকে কবিতার ছত্রে, মানুষের অনুভবে, নদীর কলধ্বনিতে!

—সিএনএন