অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিকৃতি শিল্প প্রতিযোগিতা আর্চিবাল্ড প্রাইজের পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন ফিলিপিনা-অস্ট্রেলিয়ান শিল্পী লরিবেল স্পিরোভস্কি। আঙুলের ছোঁয়ায় আঁকা আদিবাসী সঙ্গীতশিল্পী উইলিয়াম বার্টনের প্রতিকৃতিই তাকে এনে দিয়েছে এ স্বীকৃতি।

স্পিরোভস্কির জীবনে গত কয়েক বছর ছিল বেশ কঠিন। স্নায়ুতে আঘাত পাওয়ায় তুলি ধরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে তার জন্য। কিন্তু থেমে থাকেননি তিনি। বার্টনের সুর বাজিয়ে আঁকার সময় একদিন তুলি নামিয়ে রেখে আঙুল ডুবিয়েছিলেন রঙে। সেই মুহূর্ত বদলে যায় সবকিছু।

স্পিরোভস্কি বলেন, ‘তুলি ছাড়া আঁকতে গিয়ে কোনো ব্যথা অনুভব করিনি। মনে হচ্ছিল ছবি যেন নিজেই নিজেকে আঁকছে।’

ফিলিপাইনে জন্ম নেয়া স্পিরোভস্কি শৈশবে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। তার শিল্পে মিশে থাকে ইউরোপীয় ও এশীয় প্রভাব। ২০১২ সালে সিডনির কলেজ অব ফাইন আর্টস থেকে স্নাতক হওয়ার পর থেকেই তিনি আর্চিবাল্ড প্রাইজের নিয়মিত ফাইনালিস্ট। তবে পুরস্কারটি তার জন্য ভিন্ন এক অর্থ বহন করে। ‘এটা আমার জন্য শুধু স্বীকৃতি নয়, এটা আমার সুস্থ হয়ে ওঠার গল্প’, বলেন তিনি।

আর্চিবাল্ড পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ডে তিনি বিজয়ী নির্বাচিত হন দর্শকদের ভোটে। এদিকে, মূল আর্চিবাল্ড পুরস্কার জিতেছেন শিল্পী জুলি ফ্রাগার এবং প্যাকিং রুম প্রাইজ পেয়েছেন আব্দুল আব্দুল্লাহ।

কিন্তু স্পিরোভস্কির আঙুলে আঁকা ছবি এবার শুধু পুরস্কারই জেতেনি; এটি শিল্পীর জীবনেও ফিরিয়ে এনেছে নতুন রঙ, নতুন প্রেরণা।



বিবিসি
অবলম্বনে