গল্পের সেই ধূর্ত শেয়ালের কথা আমরা সবাই জানি। বাস্তবেও যে একটি লাল শেয়াল এতটা চতুর হতে পারে, তা হয়তো অনেকের ধারণার বাইরে ছিল। তবে লাল শিয়ালটিকে ধূর্ত বা চতুর বলার আগে যদিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, সে ইচ্ছা করেই পণ্যবাহী জাহাজে লুকিয়ে উঠে গিয়েছিল কিনা। শুরু করা যাক সেই গল্প...

ঘটনার শুরু ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন বন্দরে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি সেখান থেকে গাড়ি বোঝাই একটি পণ্যবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করে। সেই জাহাজে যেকোনো উপায়ে উঠে পড়ে একটি লাল শিয়াল। জাহাজের ভেতরে লুকিয়ে সে পাড়ি দেয় বিশাল আটলান্টিক মহাসাগর।

যাত্রার মাঝপথে হঠাৎই অচেনা এ যাত্রীকে দেখতে পান জাহাজের কর্মীরা। পরে বিষয়টি জানানো হয় মার্কিন সীমান্ত ও শুল্ক কর্তৃপক্ষকে।

জাহাজটি ১৮ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি বন্দরে পৌঁছায়। সেখানে দায়িত্বে থাকা মার্কিন সীমান্ত ও শুল্ক সুরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা শিয়ালটিকে উদ্ধার করেন। পরদিনই সেটিকে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

চিড়িয়াখানার প্রাণী কর্মসূচি বিভাগের পরিচালক কিথ লাভেট জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে শিয়ালটি সুস্থ রয়েছে। তার ওজন প্রায় ১১ পাউন্ড বা প্রায় ৫ কেজি। বয়স আনুমানিক ২ বছর। দীর্ঘ ও অস্বাভাবিক এ যাত্রার পরও সে ধীরে ধীরে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিচ্ছে।

এ প্রজাতির লাল শিয়ালের বৈজ্ঞানিক নাম ‘ভালপেস ভালপেস’। ইউরোপ, এশিয়া, উত্তর আমেরিকা ও আফ্রিকার কিছু অংশজুড়ে এ প্রাণীর বিস্তৃতি রয়েছে। এখন আপাতত শিয়ালটিকে চিড়িয়াখানার পশুচিকিৎসা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

বন্য পরিবেশে শেয়ালরা যা পায় তাই খায়, তবে চিড়িয়াখানায় এই বিশেষ অতিথির জন্য রাজকীয় খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার ডায়েটে রয়েছে নানা ধরনের টাটকা ফলমূল, প্রোটিন ও বিশেষ ধরনের বিস্কুট।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরো কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শিয়ালটির জন্য স্থায়ী আবাস নির্ধারণ করা হবে। আপাতত গোপন সমুদ্রযাত্রা শেষ করে সে নিরাপদ আশ্রয়েই আছে।

সত্যি বলতে এই শেয়ালটির মতো এমন দুঃসাহসিক কায়দায় দেশান্তরী হওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। সমুদ্রের নোনা বাতাস আর ইঞ্জিনের গর্জন সহ্য করে তার এমন ‘ফ্রি রাইড’ এখন প্রাণীপ্রেমীদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে।

­ —এপি থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে