আফ্রিকার বিস্তীর্ণ সাভানা ও শুষ্ক বনের গভীরে এখনো টিকে আছে মাত্র কয়েক ডজন ‘সুপার টাস্কার’ হাতি। যাদের দাঁতের প্রতিটি ওজন একশ পাউন্ডের বেশি, যেগুলো প্রায় মাটি ছুঁয়ে যায়। বিরল এক জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের কারণে জন্ম নেয়া এই দৈত্যাকার দাঁত তাদের যেমন অনন্য মর্যাদা দেয়, তেমনি করে তোলে শিকারিদের সহজ টার্গেট।
ইতালিতে জন্ম নেওয়া ফটোগ্রাফার ফেদেরিকো ভেরোনেসি শৈশব থেকেই আফ্রিকার বন্যপ্রাণীর প্রতি মুগ্ধ। সেই টান তাকে নিয়ে আসে কেনিয়ায়। যেখানে তিনি বছরের পর বছর ধরে খুঁজেছেন এই বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীগুলোকে। ‘ফটোগ্রাফি আমার কাছে শুধু ছবি তোলার মাধ্যম নয়, বরং প্রাণীদের মাঝে থাকার ও তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পথ’ বলেন ভেরোনেসি।
২০১০ সালে আম্বোসেলি ন্যাশনাল পার্কে কিংবদন্তি সুপার টাস্কার ‘টিম’-এর সঙ্গে প্রথম দেখা তার জীবনের বাঁকবদল। বিশাল দাঁত প্রায় মাটি ছুঁয়ে আসা সেই দৃশ্য যেন তার শৈশবের স্বপ্ন পূরণ করে দেয়। এরপর শুরু হয় এক দীর্ঘ অনুসন্ধান—কেনিয়া থেকে নামিবিয়া, তানজানিয়া থেকে জিম্বাবুয়ে, হাতিদের জীবন, আবেগ ও পরিবেশ ক্যামেরায় বন্দি করতে বছর কেটে যায়।
তার সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ২০২৩ সালের আগস্টে, সাভোর এক দূরবর্তী কোণে। বহুদিন ধরে আকাশপথে দেখা যাওয়া কিংবদন্তি ‘বালগুদা’কে অবশেষে কাছ থেকে দেখতে ও ক্যামেরাবন্দি করতে সক্ষম হন তিনি। “সেদিন মনে হয়েছিল, আমি জীবনের সবচেয়ে তীব্র বন্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি,” লিখেছেন তিনি।
পাঁচ বছরের পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে তার নতুন বই ‘ওয়াক দ্য আর্থ’। যেখানে শুধু ছবি নয়—আছে হাতিদের প্রেমালাপ, লড়াই, কাদায় গা ডুবানো, সাঁতার, শাখা ভাঙা আর পারস্পরিক সম্পর্কের গল্প। বইটি একইসঙ্গে এক সতর্কবার্তাও—বাসস্থান হারানো, মানুষ-প্রাণী দ্বন্দ্ব আর দাঁতের জন্য শিকার—সবই এখনও হুমকি হয়ে আছে এই বিশাল প্রাণীদের জন্য।
ভেরোনেসি শুধুমাত্র ছবি তুলে হাতিকে নথিভুক্ত করেননি পাশাপাশি তিনি তাদের আত্মিক সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটাতে চান। এজন্য তিনি ক্যামেরা প্রায় মাটির সমতলে রেখে ছবি তুলেন। কালো-সাদা ছবির মাধ্যমে হাতিদের শান্ত ধৈর্য ও সামাজিক স্বভাব ফুটিয়ে তোলেন। তিনি বলেন, ‘হাতিরা প্রজ্ঞা ও শান্তির অনুভূতি দেয়, একই সঙ্গে একে অপরের প্রতি যত্নশীল।’
‘ওয়াক দ্য আর্থ’ তাই শুধু ছবি নয়, আফ্রিকার হাতিদের জীবন, হুমকি এবং সৌন্দর্যের এক বিস্তৃত ও অন্তরঙ্গ আলোকচিত্রিক প্রতিবেদন।










