সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশী শ্রমিকের মধ্যে বাকি সাতজনের মরদেহ দেশে এসেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে (বিজি-৩৩৬) আজ শনিবার সকাল ৮টার পর মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় গত ৯ আগস্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১৬ বাংলাদেশী শ্রমিক। তাদের মধ্যে ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় নয়জনের মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তবে আগুনে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ায় সে সময় বাকি সাত শ্রমিকের দেহ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

দূতাবাস জানিয়েছে, রিয়াদে গত ১০ অক্টোবর থেকে সব ধরনের ফ্লাইট সাময়িক স্থগিত থাকায় মরদেহগুলো প্রথমে সড়কপথে জেদ্দায় নেয়া হয়। সেখান থেকে কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হলো। শনাক্ত হওয়া নিহত সাতজন হলেন নওগাঁ সদরের মো. শাহিন, আত্রাইয়ের মো. হাসিবুল হাসান শুভ, মিনহাজ প্রামাণিক, মো. মাসিদুল সরদার সজিব ও মো. সাগর আলী এবং নাটোরের নলডাঙ্গার মোহাম্মদ শামীম ও মো. সাব্বির হোসেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহত কর্মীর প্রতি পরিবারের জন্য মরদেহ পরিবহন ও দাফন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং এককালীন আর্থিক অনুদান বাবদ ৩ লাখ টাকা দেয়া হবে।

গত ২৭ আগস্ট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৪০ নম্বর ফ্লাইটযোগে নয় কর্মীর মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে। মরদেহগুলোর মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার একজন ও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একজন ছিলেন।