চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। আজ শনিবার সকালে প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে।

গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রথমে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। পরে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের পর আরো ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পান। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১।

গেল বছরের তুলনায় এ বছর কমেছে পাসের হারও। ১১ শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। ২০২৫ সালের এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে পাসের হার ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কমেছে।

এবার ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ, বরিশালে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, দিনাজপুরে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ, সিলেটে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ, কুমিল্লায় ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, চট্টগ্রাম ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ, যশোরে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, রাজশাহীতে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ, কারিগরিতে ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং মাদরাসা বোর্ডে ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ।

ফলাফল জানবেন যেভাবে

অনলাইন পদ্ধতি

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরীক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা বোর্ডগুলোর যৌথ ওয়েবসাইট (https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd) ছাড়াও নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ফল দেখতে ও মার্কশিটসহ ফলাফল ডাউনলোড করতে পারবেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বোর্ডের ওয়েবসাইটে ‘রেজাল্ট’ কর্নারে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর ব্যবহার করে পুরো ফলাফলের শিট ডাউনলোড করতে পারবে। এছাড়া পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও সরাসরি ফল সংগ্রহ করতে পারবে।

এসএমএস পদ্ধতি

আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, যেকোনো মোবাইল নম্বর থেকে এসএমএস পাঠিয়ে সহজে ও দ্রুত ফলাফল জানা যাবে। মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে—

এইচএসসি <স্পেস> বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> ২০২৬ এবং তা ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।

(উদাহরণ: HSC Dha ১২৩৪৫৬ ২০২৬ লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে)।

শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা পত্রিকা অফিস থেকে সরাসরি কোনো ফলাফল বিতরণ করা হবে না।

উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন

প্রকাশিত ফলাফলে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীদের জন্য উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। পুনর্নিরীক্ষণের বিস্তারিত নিয়মাবলী ও ফি প্রদানের প্রক্রিয়া শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছর ১১টি বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। সারাদেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।