বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে চতুর্থ পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং থাইল্যান্ড প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব এক্সিরি পিন্টারুচি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, জ্বালানি, কৃষি, ওষুধশিল্প, সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
দ্বিপাক্ষীক বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশ তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করে। যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি ওষুধ আমদানি, থাইল্যান্ডের পণ্যের পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ের জন্য বাংলাদেশ থেকে পাটজাত পণ্য সংগ্রহ এবং থাইল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাস। থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানানো হয় এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরো সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
উভয় পক্ষ যোগাযোগ খাতে চট্টগ্রাম ও রানং বন্দরের মধ্যে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সরাসরি সামুদ্রিক নৌ- সংযোগ চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে। এ সংযোগের ফলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনে সময় প্রায় ১৫ দিন থেকে কমে মাত্র ৪ দিনে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে পরিবহন ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।
থাইল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম অগ্রগামী খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী দেশ। এ খাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন শাক-সবজি ও ফল বিশেষ করে আম ও কাঠাল প্রক্রিয়াজাতকরণে থাইল্যান্ডের কারগরি সহযোগিতা ও বিনিয়োগ আহ্বান করা হয়। কারিগরি সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে থাইল্যান্ডের ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ কর্মসূচির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময়ের জন্য আহবান করা হিয়। এছাড়া, চাল আমদানি ও কর্মী অভিবাসনসহ আলোচনাধীন বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি বিবেচনা করতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
এছাড়া দুই দেশের মধ্যে চলমান জ্বালানি সহযোগিতায় উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের জাতীয় লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ কৃষিজ অবশিষ্টাংশ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পবর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে থাইল্যান্ডের কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে উভয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফর আয়োজনের উপর গুরুত্বারোপ করে। এ ছাড়াও, কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫তম বার্ষিকী উদযাপন সামনে রেখে সাংস্কৃতিক বিনিময়, ক্রীড়া সহযোগিতা ও পর্যটন সম্প্রসারণে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে উভয় পক্ষ সম্মত হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের সঙ্গে ক্রিকেট কোচিং ও প্রশিক্ষণবিষয়ক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের প্রস্তাব দেয়। বাংলাদেশের ক্রিকেট কোচিংয়ের প্রস্তাবকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায় থাইল্যান্ড।
আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে সদস্যপদ লাভের প্রচেষ্টায় থাইল্যান্ডের অব্যাহত সমর্থনের জন্য বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এছাড়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে তাদের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ হতে অব্যাহত সমর্থন ও সহোযোগিতা কামনা করা হয়।
বৈঠক শেষে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।










